সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইথিওপিয়া গোপনে একটি প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করছে। সেখানে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর জন্য হাজার হাজার যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও একাধিক সূত্রের বরাতে পাওয়া এই তথ্য সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে ইথিওপিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রথম দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার ফলে আফ্রিকার অন্যতম রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে একটি বিপজ্জনক মাত্রা যোগ হয়েছে। দক্ষিণ সুদানে যুদ্ধ এখন তীব্র হয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্রোহী আরএসএফ নতুন করে প্রশিক্ষিত যোদ্ধা পেলে শক্তির ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ইথিওপিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ অন্তত আটটি সূত্র দাবি করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই শিবির নির্মাণে অর্থায়ন করেছে এবং সামরিক প্রশিক্ষক ও রসদ সহায়তা দিয়েছে। ইথিওপিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ নথি ও একটি কূটনৈতিক তারবার্তায়ও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে ইউএই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সুদানের সংঘাতে কোনোভাবেই জড়িত না।
২০২৩ সালে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে দেশটিতে দুর্ভিক্ষ, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিলিয়ন মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ইথিওপিয়ার ১৫ জনের বেশি সরকারি কর্মকর্তা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। সংবাদ সংস্থাটির হাতে আসা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সুদান সীমান্তের কাছে ইথিওপিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বেনিশাঙ্গুল-গুমুজ অঞ্চলে বনভূমি কেটে ওই প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। গত বছরের (২০২৫) এপ্রিল থেকে ওই স্থানটি পরিষ্কার করা শুরু হয় এবং অক্টোবরে বড় পরিসরে তৎপরতা বাড়ে। নভেম্বরের শেষ দিকে সেখানে ৬৪০ টির বেশি তাঁবু দেখা গেছে।
নিরাপত্তা নথি অনুযায়ী—চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ আরএসএফ যোদ্ধা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক হলেও সুদান ও দক্ষিণ সুদানের যোদ্ধারাও রয়েছেন। তাঁদের একটি অংশ ব্লু নাইল অঞ্চলে সুদানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাঠানো হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই প্রশিক্ষণ শিবিরের তত্ত্বাবধানে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল গেটাচিউ গুদিনার ভূমিকার কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি নিকটবর্তী আসোসা বিমানবন্দরে ড্রোন পরিচালনার অবকাঠামো গড়ে তোলার চিত্র ধরা পড়েছে, যা আরএসএফকে সহায়তা দিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।