হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন ঘাঁটিতে তৎপরতা, সতর্ক অবস্থানে ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। এই সদস্যদের স্মরণ আয়োজনে জড়ো হয় সরকারপন্থী হাজারো মানুষ। এ সময় এক নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। গতকাল রাজধানী তেহরানে। ছবি: এএফপি

ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তাহলে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইরান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিলে দমনপীড়ন শুরু হয়। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, এই বিক্ষোভে ইতিমধ্যে দুই থেকে তিন হাজার মানুষ মারা গেছে। আর মানবাধিকার সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, ইরানে বিক্ষোভে মৃত্যুর সংখ্যা আসলে ১২ হাজার ছাড়িয়েছে।

এই বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালানো হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে। এরপরও দমনপীড়ন থামেনি। সর্বশেষ গতকাল বুধবার এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ইরানে। এর কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।

গত মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি ফাঁসির বিষয়ে শুনিনি। যদি তারা তাঁদের ফাঁসি দেয়, তবে আপনারা এমন কিছু দেখবেন... তারা যদি এমন কাজ করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

তবে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে ট্রাম্প কিছু না বললেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে কিছু সদস্য সরিয়ে নিচ্ছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও ইরানের নেতাদের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বসতর্কতা হিসেবে ঘাঁটিগুলো থেকে ওই সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সেনাঘাঁটি কাতারের আল উদেইদ থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবেও এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

এ ছাড়া হামলার শঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল। এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইসরায়েল সব সময় তার পক্ষে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে আনার চেষ্টা করেছে।

অনড় অবস্থানে ইরান

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিতে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিলেও অবস্থান থেকে সরছে না ইরান। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, বিক্ষোভ দমনে খানিকটা কৌশলী হতে চাইছে ইরানের বিচার বিভাগ। তারা বিক্ষোভকারীদের তিনটি ভাগে ভাগ করার পরামর্শ দিয়েছে। এর এক ভাগে থাকবে সেই সব বিক্ষোভকারী, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িত। আরেক ভাগে থাকবে সেই সব বিক্ষোভকারী, যারা নাশকতা করেছে। আরেক ভাগে থাকবে, যারা শুধু বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে, তবে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্র যাতে হামলা চালানোর কোনো অজুহাত না পায়, সেই জন্য এসব পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার জবাব দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরান। ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের সরকার মনে করছে, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই পদক্ষেপের পরিধি ও সময় এখনো অস্পষ্ট। ইরানের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে তেহরান আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত এই অঞ্চলের সব দেশকে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তাদের দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালানো হবে।

উত্তেজনা বাড়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

পশ্চিমারা এককাট্টা

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এককাট্টা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পশ্চিমারা। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে হাঁটছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও।

এদিক ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা চিন্তা করছে ফ্রান্স। সেখানে বিক্ষোভকারীরা যাতে ইন্টারনেট সেবা পেতে পারে, এ জন্য ইউটেলস্যাট স্যাটেলাইট টার্মিনাল ইরানের ওপর থেকে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা করছে তারা। ফ্রান্সের পার্লামেন্টে এই তথ্য জানিয়েছেন জ্যঁ নোয়েল।

ইউক্রেনের ২ লাখ সেনা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়েছেন—নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তথ্য

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা স্থগিত হচ্ছে

ইরানে অস্থিরতার সুযোগে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে কুর্দি যোদ্ধারা, তেহরানে উদ্বেগ

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সৌদি ভূমি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না রিয়াদ

চীন-রাশিয়ার হাত থেকে আমরাই গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারি: ট্রাম্প

ইরানের হুমকির পর মার্কিন কর্মীদের কাতারের ঘাঁটি ছাড়ার পরামর্শ

ইরান ছাড়তে চাওয়া মানুষের ভিড় বাড়ছে তুরস্ক সীমান্তে

আমাদের দেশে তেল নেই, আছে বাঘ আর কুমির—ট্রাম্পকে নিয়ে মজা করছেন মালয়েশীয়রা

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের মৃত্যুদণ্ড চাইলেন কৌঁসুলিরা

থাইল্যান্ডে যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর ক্রেন ছিঁড়ে পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২