ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে শুনানি শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে তাঁর শাসনামলে সংঘটিত ডজন ডজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রসিকিউটররা আজ সোমবার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করেন। তবে দুতার্তে হেগের এজলাসে উপস্থিত ছিলেন না।
চার দিনব্যাপী এই ‘কনফার্মেশন-অব-চার্জ’ শুনানিতে বিচারকেরা নির্ধারণ করবেন—দুতার্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে কি না। শুনানি শেষে বিচারকদের হাতে তাঁদের লিখিত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় থাকবে।
২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা দুতার্তেকে গত বছরের মার্চ মাসে ম্যানিলা থেকে গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে আসা হয়। ৮০ বছর বয়সী দুতার্তে বর্তমানে শেভেনিনজেন কারাগারের আইসিসি ডিটেনশন ইউনিটে বন্দী রয়েছেন। এর আগে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে দেওয়া শুনানিতে তাঁকে অত্যন্ত দুর্বল ও বিমর্ষ দেখা গিয়েছিল।
গত মঙ্গলবার আদালতকে পাঠানো এক চিঠিতে দুতার্তে আগের মতোই উদ্ধত আচরণ করেছেন। তিনি আইসিসির এখতিয়ার ‘স্বীকার করেন না’ বলে জানিয়েছেন এবং তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর জন্য তিনি ‘গর্বিত’ বলেও দাবি করেছেন। এমনকি তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে তাঁকে ‘অপহরণ’ করতে আইসিসিকে সহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে মার্কোস জুনিয়র ও দুতার্তের মেয়ে (বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট) সারা দুতার্তে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই শুনানিকে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলো একে ‘সত্যের মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছে। লোর পাসকো নামের এক মা (যাঁর দুই ছেলেকে ২০১৭ সালে হত্যা করা হয়েছিল) আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্টসহ জড়িত সবার জবাবদিহি জরুরি। আমি কিছুটা নার্ভাস, কিন্তু এটিই সত্যের মুহূর্ত।’
আইসিসি প্রসিকিউটররা দুতার্তের বিরুদ্ধে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত ৭৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন। তবে ধারণা করা হয়, এই সংখ্যা ৩০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
দুতার্তের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—২০১৩-১৬ সালে দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালে ১৯টি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, ২০১৬-১৭ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ১৪ জন ‘হাই-ভ্যালু টার্গেট’ বা শীর্ষ মাদক কারবারিকে হত্যা, ২০১৬-১৮ সালে দেশজুড়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ অভিযানের নামে ৪৩ জন (নিম্নস্তরের) মাদকসেবী বা বিক্রেতাকে হত্যা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে দুতার্তের নির্দেশে ফিলিপাইন আইসিসির সদস্যপদ ত্যাগ করলেও আদালত রায় দিয়েছেন, ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে। যদিও দুতার্তের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
এশিয়ায় কোনো দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আইসিসিতে হাজির হওয়া প্রথম ব্যক্তি হলেন দুতার্তে। তবে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি ফিলিপাইনে এখনো বেশ জনপ্রিয়।