খুনের রহস্য উন্মোচন করতে না পারায় সোমালিয়ার গোয়েন্দা প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ঘোষণা আসে। এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমালিয়ার ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স সার্ভিস অ্যাজেন্সির (এনআইএসএ) এক সদস্যের খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় সংস্থাটির প্রধান হাফাদ ইয়াসিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে গতকাল সোমবার জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ হোসেন রোবল। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন এখনো হাতে আসেনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহি মোহাম্মদ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এনআইএসএর প্রধান হিসেবে ইয়াসিনেরই থাকা উচিত।’
এই বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতির মধ্য দিয়ে সোমালিয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটিতে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ক্রমশই বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দিক থেকে হুমকি তো আগেই ছিল। এ অবস্থায় রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেশটিতে নতুন করে আস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সোমালিয়ার পুলিশ প্রধান বিশেষ সভা ডেকেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সোমালিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সোমালিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাহমুদ ওমর রয়টার্সকে বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান প্রকাশের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনটি সবার সামনে চলে এল। এটি নিরাপত্তা সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী রোবলকে উদ্দেশ্য করে বলেই দিয়েছেন—তিনি একটা সীমার পর আর কিছু গ্রহণ করবেন না।’
ঘটনার শুরু ইকরান তাহলিল ফারাহ এনআইএসএ এজেন্টের হত্যার মধ্য দিয়ে্ গত জুনের শেষ দিকে সাইবারসিকিউরিটি বিভাগের এই তরুণ কর্মী নিখোঁজ হন। বিষয়টি নিয়ে সোমালিয়ায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়। গত সপ্তাহে সোমালি সরকার ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবকে তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় অন্য বিতর্ক। বলা হয়, এজেন্সি নিজেই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এদিকে আল-শাবাবও অভিযোগ অস্বীকার করে।
স্বাধীন বিশ্লেষক রশিদ আবদি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ, এই হত্যাকাণ্ড নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেই বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত এপ্রিলে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এমনকি সংঘাতের ঘটনাও আমরা দেখেছি।’