রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় সাইদুল আমীন সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর স্বজনেরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সীমান্তকে স্বজনেরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সীমান্তের চাচা রুহুল আমিন জানান, তাঁদের বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদীর বীরগাঁও গ্রামে। সীমান্তের বাবার নাম সদরুল আমীন। সীমান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের শেষ বর্ষে পড়তেন। হাজারীবাগ মনেশ্বর রোডের পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় একটি বাসায় দু’জন থাকতেন।
তিনি আরও বলেন, গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তের বন্ধু বাইরে থেকে এসে দরজা বন্ধ পায়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করে সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে আমাকে ফোন দেয়। এরপর বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে সীমান্তকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাই। দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
তবে সীমান্ত কী সেবন করেছেন সে বিষয়ে রুহুল আমিন কিছু জানাতে পারেননি।
রুহুল আমিন জানান, সীমান্তরা দুই ভাই-বোন। এক বোন প্রতিবন্ধী। তার মা করোনার সময় মারা গেছেন। এসব নিয়ে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।
হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদ হাসান জানান, রাতে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে সীমান্তের মরদেহ পাওয়া যায়। হাজারীবাগের বাসায় তারা দু’জন একটি রুমে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় সীমান্তের রুমমেট বাইরে ছিলেন। পরে সীমান্তের স্বজনেরাসহ দরজা ভেঙে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, করোনায় মায়ের মৃত্যু, বোন প্রতিবন্ধী —এসব বিষয় নিয়ে হতাশায় ছিলেন সীমান্ত। বিষপান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।