দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ফাইল পর্যালোচনা করে গুরুতর অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। আজ শনিবার ছুটির দিনেও দুপুরে সচিবালয়ে গিয়ে নিজ দপ্তরে বসে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “কিছু প্রতিষ্ঠান ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের’ পরিবর্তে ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের’ মতো পরিচালিত হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নিজস্ব জমি নেই, নেই প্রয়োজনীয় আমানতের বৈধ দলিল। এমনকি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানে না আছে পর্যাপ্ত হাসপাতাল সুবিধা, না আছে রোগী—ফলে শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রশিক্ষণ পাচ্ছে না। অভিভাবকেরা তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করেও প্রতারিত হচ্ছেন। প্রশিক্ষণহীন চিকিৎসক তৈরি হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’
এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনগণের জীবন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, প্রতিটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতেই হবে। পর্যাপ্ত শিক্ষক, হাসপাতাল অবকাঠামো ও রোগী না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “ভুয়া ক্লিনিক ও নার্সের মতো ‘ভুয়া ডাক্তার’ তৈরির কারখানাও বন্ধ করতে হবে।”
সরকার ‘অনিয়ম থেকে নিয়মের বাংলাদেশ’ গড়তে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি জনগণকে এই অভিযানে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।