হোম > স্বাস্থ্য

নীলফামারীতে হাসপাতাল প্রকল্প: উত্তরের চিকিৎসাসেবার নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

চীনের অর্থায়নে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল তৈরির প্রকল্পটি আগামীকাল রোববার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নীলফামারী সদর উপজেলায় নির্মিতব্য হাসপাতালটির নাম হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল। অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, এটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। তিন বছর সময় নিয়ে সাড়ে ২৫ একর জমির ওপর হাসপাতালটি তৈরি করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রকল্পটি একনেক সভায় উত্থাপন করা হবে। আশা করছি, চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।’

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদের এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার থেকে ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং চীনসহ অন্যান্য উৎস থেকে ২ হাজার ২৮০ কোটি ৭ লাখ টাকার ব্যবস্থা করা হবে।

হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এটি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পর্যালোচনা করে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই সভার সুপারিশের আলোকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উত্থাপন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর অধিবাসীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে। এক হাজার শয্যার আধুনিক হাসপাতালটিতে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, কিডনি ও স্নায়বিক সমস্যার মতো জটিল রোগের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই দেওয়া সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রকল্পের পরিকল্পনায় যা রয়েছে, গোটা উত্তরাঞ্চলে এত বড় পরিসরের আধুনিক হাসপাতাল এখন নেই। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য উত্তরাঞ্চলের মানুষকে ঢাকায় আসতে হবে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের রোগী আসার সম্ভাবনা

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, এই হাসপাতাল শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, প্রতিবেশী দেশ থেকেও রোগীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা হলে এটি একটি আঞ্চলিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশ্লেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এই হাসপাতাল প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন বলেন, ‘রংপুর বিভাগের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। সঠিক জনবল নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই হাসপাতাল দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি মডেল প্রকল্প হতে পারে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রকল্প হিসেবে এই হাসপাতাল নির্মাণ হলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দুই দেশের সহযোগিতারও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।

বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতন পেয়েও কেন পেশা ছাড়ছেন মার্কিন চিকিৎসকেরা

দাঁত সুরক্ষায় ভুল ধারণা এবং সঠিক পরিচর্যা

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি আঁশযুক্ত খাবার

কোন খাবার ফ্রিজে রাখবেন না

অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমের সমাধান ডিজিটাল ডিটক্স

র‍্যামজি হান্ট সিনড্রোমের লক্ষণ ও চিকিৎসা

পেশি থাকবে অটুট, কমবে চর্বিও—বয়স্কদের সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়াম নাকি ‘এইচআইআইটি’

যে ৮ লক্ষণে বুঝবেন রক্তশূন্যতায় ভুগছেন

১৯৯০ সালের ওষুধের দাম সরকার এখনো বাড়াতে দিচ্ছে না: ওষুধ শিল্প সমিতি

গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামলে ক্ষতি—ট্রাম্পের দাবির প্রমাণ নেই, বলছে গবেষণা