সন্তানের পছন্দ-অপছন্দের খবর থাকে মায়ের কাছে। সে কী খেতে চায়, কী অপছন্দ করে কিংবা কী পেলে খুশি হয়, তা মায়েদের মুখস্থ থাকে। কিন্তু মায়ের পছন্দের বিষয়ে অনেকের জ্ঞান শূন্যের কোঠায়। তাই মা সারা দিন রান্নাঘরে কাজ করেন বলে তাঁকে অনেক সময় ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডার দেওয়া হয়। সংসারের বাইরেও যে তাঁর অন্য কিছু প্রয়োজন আছে, তা অনেকেই বোঝেন না।
ঘরে বন্দী থাকায় মায়েদের মানসিক চাপ বাড়ছে। তাই পড়তে ভালোবাসলে বই, রান্নার প্রতি ঝোঁক থাকলে স্মার্টফোন এবং বাগান করার প্রতি আগ্রহ থাকলে গাছ দিতে পারেন। উপহার হিসেবে কী দেবেন, তা ঠিক করতে না পারলে কোনো প্রতিষ্ঠানের গিফট কার্ড কিনে দিতে পারেন। এই কার্ড দিয়ে তিনি নিজের পছন্দমতো পণ্য কিনতে পারবেন। ছোট আকারের গাছ দিতে চাইলে ঢুঁ মারতে পারেন বিভিন্ন নার্সারিতে। পাতাবাহার, ফণীমনসা, বনসাইসহ পছন্দের বিভিন্ন গাছ মিলবে সেগুলোতে।
মায়ের জন্য পছন্দের কোনো খাবারও অর্ডার করতে পারেন, কিংবা কেক এনেও চমকে দিতে পারেন তাঁকে। উপহার হিসেবে শাড়ির আবেদনও কম নয়। তাঁত, জামদানি, মণিপুরি কিংবা সুতির শাড়ি বেছে নেওয়া মোটেও কঠিন কিছু নয়। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি পাওয়া যাবে।
চাইলে গ্যাজেটও বেছে নিতে পারেন। মায়ের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে চিন্তা থাকলে স্মার্টওয়াচও উপহার দিতে পারেন। হৃদ্স্পন্দনের মাত্রা, ঘুমের চক্র ও অক্সিজেন মাপা যাবে এমন ধরনের স্মার্টওয়াচ বেছে নিন। পড়ার প্রতি ঝোঁক থাকলে মায়ের জন্য তাঁর প্রিয় লেখকের বই কিনুন। অনলাইনে এখন অসংখ্য বই বিক্রির পেজ রয়েছে, রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। আর বিখ্যাত বইয়ের দোকানগুলো তো আছেই। সেগুলোতেও ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন। আপনার মা যদি স্ক্রিনে পড়তে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, তাহলে ট্যাবও উপহার দেওয়া যেতে পারে।
তবে যা-ই দিন না কেন, তার সঙ্গে একটি নোট লিখে দিন। নিজের হাতে মাকে নিয়ে কয়েকটি লাইন লিখুন। আপনি ঠিকমতো মনের কথা গুছিয়ে লিখতে না পারলেও মায়ের মুখে হাসি ফুটবে।