জৈন্তাপুরে হাওর থেকে উদ্ধার করা লাশ দাফনের আট ঘণ্টা পর জানা গেল এটি ডালিমের নয়। গত মঙ্গলবার রাতে মাটি চাপা অবস্থায় ডালিমের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে দ্বিতীয়বার ‘ডালিম’র লাশ উদ্ধার হওয়া নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিল থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি কার—এ প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘাটেরছটি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে ডালিম আহমদ (২২) ৫ মার্চ নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ঘটনায় পরদিন ৬ মার্চ বাচ্চু মিয়া জৈন্তাপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ৭ মার্চ বিকেল তিনটার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানা-পুলিশ তদন্তে যায়। এ সময় পুলিশ ঘাটেরছটি বিলের তারেকের পুকুরে পা বাঁধা একটি লাশের সন্ধান পায়।
লাশটি উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ডালিমের বাবা সেটিকে ডালিমের লাশ বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ অধিকতর তদন্তের জন্য উদ্ধার করা লাশটি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ৮ মার্চ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চিকনাগুল এলাকায় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে পুলিশ হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে ওই রাতেই তদন্তে নামে। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘাটেরচটি নয়াটিলা জামে মসজিদ সংলগ্ন কৃষি জমিতে মাটি চাপা অবস্থায় একটি লাশের সন্ধান পায় পুলিশ। লাশের পাশ থেকে ছোরা, গেঞ্জি ও একটি প্যান্ট উদ্ধার করে পুলিশ।
মাটিচাপা লাশ উদ্ধারের পর বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে সেটিকে নিখোঁজ ডালিমের বলে শনাক্ত করে পুলিশ। এদিকে ডালিমের বাবা ও নিকট আত্মীয়রাও এটি নিখোঁজ ডালিমের লাশ বলে পুনরায় শনাক্ত করেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, ‘নিখোঁজের বাবা বাচ্চু মিয়া ও নিকট আত্মীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের পর বিলের পুকুর থেকে উদ্ধারকৃত লাশ ডালিমের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডালিম হত্যার প্রকৃত রহস্য জানতে অনুসন্ধান করতে যায় পুলিশ। ঘাটেরচটি নয়াটিলা জামে মসজিদ সংলগ্ন কৃষি জমিতে অনুসন্ধান চালানোর সময় মাটি চাপা অবস্থায় গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। পরে লাশ, গেঞ্জি, প্যান্ট উদ্ধার করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের ফিঙ্গার যাচাই করে জানতে পারি, মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাশটি নিখোঁজ ডালিমের। অপরদিকে হাওরের পুকুর থেকে উদ্ধার করা লাশটি ডালিমের নয়। দাফন করা অজ্ঞাতপরিচয় লাশের পরিচয় শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।’