এখানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা কেবল যে উন্নত শিক্ষাই পেয়ে থাকেন তা নয়; বরং তাঁদের জন্য রয়েছে দেশটির হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, যা তাঁদের মানবিক দিকগুলোও বিকশিত করে তোলে।
ফ্রি টিউশন
রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার খরচ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো দেশের খরচের চেয়ে অনেকগুণ বেশি সাশ্রয়ী। এ ছাড়া শিক্ষার মানের দিকে যদি খেয়াল করা হয়, তাহলে দেখা যাবে রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাশ্চাত্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বর্তমানে বেশ ভালোভাবে এগিয়ে আছে।
বিশ্বের স্বল্প সংখ্যক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম, যারা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি টিউশনের ব্যবস্থা করে থাকে। প্রতিবছরই রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোটাভিত্তিক কয়েক হাজার স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ‘মৈত্রী ও সহযোগিতা’ চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য রাশিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।
টিউশন ফি
টিউশন ফি প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ডলার হতে পারে। ওষুধ ও প্রকৌশলের মতো কিছু কোর্স ছাড়া সেটি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্তও হতে পারে। এসএসসি ও এইচএসসিতে ৫০ শতাংশ মার্কস থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার পাওয়া কিছুটা সহজ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি ১০০ ডলার। এটি কিছু ইউনিভার্সিটিতে লাগতে পারে, তবে বেশির ভাগ ইউনিভার্সিটিতেই লাগে না। আবেদন করতে সাধারণত আইইএলটিএস খুব কম ইউনিভার্সিটিতে লাগে, তবে বেশির ভাগ ইউনিভার্সিটিতে লাগে না। কেননা বেশির ভাগ ইউনিভার্সিটি রাশিয়ান মিডিয়ামে কোর্স অফার করে। তাই এক বছর রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স ইউনিভার্সিটির আন্ডারে করতে হয়।
রাশিয়ায় পড়াশোনার খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। রাজধানী মস্কোর বাইরে টিউশন ফি আরও কম। এ ছাড়া বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে হোস্টেল সুবিধা। এর জন্য ব্যয় হবে বছরে ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার।
আবেদনের সময় ও প্রক্রিয়া
রাশিয়ান ইউনিভার্সিটিগুলোতে বছরে দুইবার আবেদন করা যায়। রাশিয়ার শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। শিক্ষাবর্ষ দুটি সেমিস্টারে বিভক্ত। প্রথমটি সেপ্টেম্বরে এবং দ্বিতীয়টি ফেব্রুয়ারিতে। সেমিস্টার বিরতিতে রয়েছে ছুটি। এ সময় শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগও রয়েছে।
যা যা লাগবে
পার্টটাইম জব ও নাগরিকত্ব
রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা শুধু সামার সেশনে অনুমতি ছাড়া জব করতে পারেন। এ ছাড়া বছরের বাকি সময় কাজ করতে হলে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল মাইগ্রেশন থেকে অনুমতি নিতে হয়। সেটি বড়ই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ ছাড়া শিক্ষাজীবন শেষে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে। পড়ালেখা শেষ করে কেউ চাইলেই স্থায়ীভাবে রাশিয়ায় থাকার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। তবে সে জন্য রাশিয়ান সরকারের বেশ কিছু শর্ত থাকে। শিক্ষার্থীদের এই শর্তগুলো বেশ কঠোরভাবে পূরণ করতে হয়।