চলমান বিশ্বের শীর্ষ দুই ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। হাজারো বিরোধ সত্ত্বেও নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখতে চান দুই দেশের নেতারা। তাই দুই মাসের মাথায় এশিয়ার স্থানীয় সময় আগামী মঙ্গলবার সকালে দেশ দুটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সি চিনপিং দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি জানান, উভয় নেতা নিজেদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব, অগ্রাধিকার ইত্যাদি অকপটে চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরবেন।
উভয় নেতা স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে এক বিবৃতিতে জানান চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনয়িং।
বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির প্রেসিডেন্টদের মধ্যে আলোচনার আগে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যাই বলা হোক না কেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তাইওয়ানের নিরাপত্তা, করোনার উৎপত্তি, অস্ট্রেলিয়াকে পরমাণু শক্তিসম্পন্ন ডুবোজাহাজ তৈরিতে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সেপ্টেম্বরে করা ‘অকাস’ চুক্তি, জাপান-অস্ট্রেলিয়া-ভারতকে নিয়ে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের করা ‘কোয়াড’, ২০১৮ সাল থেকে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগর, হরমুজ প্রণালি, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, চীনের সামরিক উচ্চ বিলাস ইত্যাদি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের শেষ নেই।
তারপরও কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে দুই দেশ সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে কাজ করছে। চীনের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি করার পরও ওয়াশিংটন বারবার এমনটিই দাবি করছে। তবে অকাস ও কোয়াডের মাধ্যমে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র গত শতকের স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে বেইজিংয়ের।