নান্দাইল উপজেলায় মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। উপজেলার এক বাজারে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে দুই ধর্মের অনুসারীরা নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন দীর্ঘ দিন ধরে। মসজিদ থেকে আজান এবং মন্দির থেকে ঢাক–ঢোলের শব্দে কেউ কখনো বিরক্ত হন না। বরং একজন অন্যজনের ধর্মপালনে সহায়তা করেন।
জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা বাজারে মুখোমুখি স্থাপন করা হয়েছে মসজিদ ও মন্দির। শত বছর ধরে যার যার ধর্মপালন করে আসছেন স্থানীয়রা। ধর্মপালন নিয়ে কারও প্রতি কারও ক্ষোভ বা অভিমান নেই। নামাজের সময় হিন্দুরা তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ রাখছেন, অন্যদিকে হিন্দুদের ধর্মপালনেও মুসল্লিরা সহযোগিতা করছেন।
রায়পাশা গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মুখোমুখি মসজিদ ও মন্দির থাকলেও ধর্ম পালনে কারও কোনো সমস্যা হয় না। ’
তাপস চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘২০০৮ সালের দিকে মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা হলেও শত বছর ধরে মন্দিরের মুখোমুখি মসজিদ।’
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিন বলেন, ‘যার যার ধর্ম পালন করছি, কোনো সমস্যা হয় না। আমরা মিলেমিশে আছি। পূজা শুরু হওয়ায় গত মঙ্গলবার গরুর হাট এখানে বসতে দেওয়া হয়নি। তাঁদের ধর্মকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে বাজার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি।’
রায়পাশা কালিমাতা ঠাকুরানি মন্দিরের সেবায়েত প্রাণতুষ বিশ্বাস পরিতোষ বলেন, ‘১৬৭৬ সাল থেকে এখানে পূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। দুর্গাপূজা ১২৮ তম বারের মতো এবার হয়েছে। মসজিদ ও মন্দির মুখোমুখি থাকলেও আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।’
মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আসাদ উল্লাহ বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু–মুসলিম সমস্যা হলেও আমাদের এখানে সবাই এক, অভিন্ন। আমরা একে অপরকে ধর্ম পালনে সুযোগ করে দিই।’