নির্ধারিত সময়ের আগেই জোর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অমর একুশে ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে উঠে পড়েছেন আবাসিক ছাত্ররা। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধ উপেক্ষা করেই তাঁরা হলে প্রবেশ করেন। কর্তৃপক্ষ দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেও তাঁদের হল থেকে সরাতে পারেনি।
আগামী ৫ অক্টোবর অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছেন, হল খোলার আগে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অন্য কোথাও থাকলে সেখানে পুরো মাসের ভাড়া দিতে হবে। এই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে তারা গতকাল থেকেই হল খোলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা জোর করে হলে উঠে পড়ার পর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ইসতিয়াক এম সৈয়দ আমাকে তাদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান। আমি সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তাঁরা হল থেকে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ব্রিফিংকালে প্রাধ্যক্ষ ড. ইশতিয়াক এম সৈয়দ জানান, একাডেমিক কাউন্সিল ও প্রভোস্ট কমিটিতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ের ওপর আমরা এখনো রয়েছি। তবে কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।
গতকাল বিকেলে অমর একুশে হলে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা তখনও নিজেদের মালপত্র নিয়ে হলে প্রবেশ করছেন। এ সময় কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, তারা চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে মেস ছেড়ে দিয়েছেন। এখন চলতি মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলে আরও পাঁচদিন মেসে থাকতে হবে। এজন্য পাঁচ-ছয় হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। এটা অনেকের জন্যই চাপ সৃষ্টি করবে।
সারজিস আলম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, হল ছেড়ে কই যাব! ঢাকা শহরে কেউ কারও বাসায় এক দিন রাখতে চায় না। ৫ তারিখ পর্যন্ত থাকার ব্যবস্থা করে দিলে হল ছাড়ব।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তারাও এই মাসের শুরুতেই ভাড়া বাসা ছেড়েছেন। চলতি মাসে আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। থাকার অন্য জায়গা না থাকায় তাকা হলে এসেছেন। কর্তৃপক্ষ বের করে দিতে চাইলে হল গেটে তাঁবু গেড়ে থাকবেন বলেও জানান কয়েকজন।
শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট ড. জাবেদ হোসেন বলেন, একাডেমিক কাউন্সিল ও প্রভোস্ট কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করা সম্ভব নয়। তবে যেসব শিক্ষার্থীর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য জরুরি ব্যবস্থা হবে। হলের হাউজ টিউটরদের সঙ্গে কথা বলেছি।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টা আমি জেনেছি। হল প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়েছে।