সংরক্ষণের অভাবে বান্দরবানে নষ্ট হয়ে যেত কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল। বাগান থেকে উত্তোলনের পর দিনে দিনে বিক্রি করতে না পারলেই কৃষকদের এসব ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তেন তাঁরা। এসব বিবেচনায় সম্প্রতি বান্দরবানে চালু হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত মিনি হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ)।এই হিমাগার ঘিরে কৃষকেরা এখন নতুন আশা দেখছেন।
দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফের যৌথ উদ্যোগে এই হিমাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পাহাড়ের কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সুবিধা বাড়বে।
বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের পাশেই ম্রোলংপাড়া এলাকায় এই হিমাগার নির্মাণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের (সোলার প্যানেল সিস্টেম) সাহায্যে এই হিমাগার পরিচালিত হবে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা জানান, এই হিমাগার বেশ কয়েকটি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দিয়ে সচল রাখা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। এটি যদি সফলতা পায়, তাহলে বান্দরবানে এ রকম আরও হিমাগার চালু করা হবে। গত শনিবার বিকেলে ম্রোলংপাড়ায় হিমাগার প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।
বীর বাহাদুর বলেন, এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কৃষিপ্রধান প্রান্তিক এলাকাগুলোয় সোলার প্যানেলচালিত কোল্ডস্টোরেজ সেন্টার স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে এই হিমাগারের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হবেন। উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের সুযোগ থাকায় তাঁরা বিক্রি না হলে তা হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা আর কৃষকদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বা কমমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ পাবে না। কৃষকেরা তাঁদের পণ্যের ভালো দাম পাবেন।’
পার্বত্য জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এই হিমাগারে ৫ টন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা যাবে। এখন আর উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকবে না। ফলে তাঁরা সংরক্ষণ করে ভালো দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।