গত তিন দিন থেকে নীলফামারী দিনাজপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠান্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কৃষকেরা গবাদি পশু-পাখি চট দিয়ে ঢেকে রেখে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলছে আবহাওয়া বিভাগ।
গতকাল রোববার নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়। চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত শুক্রবার। ওই দিন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে প্রবাহিত হয়েছিল।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে তাপমাত্রা বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক এক শতাংশ, অর্থাৎ গতকাল দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, রোববার দিনাজপুরে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ; বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩-৪ কিলোমিটার, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮-১০ কিলোমিটার গতিতে ধাবিত হয়। রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত তিন দিন থেকে এই অঞ্চলে মাঝারি থেকে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী দুই-তিন দিন এ অবস্থা থাকতে পারে। এ ছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কম থাকায় বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট চলাচল দুপুর পর্যন্ত বন্ধ থাকছে।
নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডের সিএনজি চালক রশিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকার জানান, ‘কয়েক দিন থেকে শীত বেশি পড়ছে। গরম পোশাক পরলেও ঠান্ডায় শরীর কাঁপছে। শীতের তীব্রতায় গ্রামের হাটবাজারে ও শহরে লোকসমাগম কমে গেছে। সকালে দোকানপাট যেমন খুলছে না, আবার সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এসব কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচলও কম। যাত্রী তেমন একটা পাচ্ছি না। আরও দু-এক দিন এমন অবস্থা চললে আয় রোজগারের অভাবে সংসারে চালানো কষ্টকর হবে।’
সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন আজকের পত্রিকাকে জানান, শুক্রবার থেকে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করে। শনিবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে শৈত্যপ্রবাহটি মাঝারি থেকে মৃদু হিসেবে বইতে থাকে, যা গতকাল রোববার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, জেলায় আগামী ২-৩ দিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে।