হোম > ছাপা সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে দুটি সিনেমার কাজ করেছি

শিহাব আহমেদ

গত বছর শুটিংয়ের কাজে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর স্ত্রী মারা গেলে আর দেশে ফেরা হয়নি। সম্প্রতি অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করার জন্য দেশে ফিরেছেন এ অভিনেতা। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর দুটি সিনেমা। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরা, সিনেমা মুক্তি ও সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে মিলনের সঙ্গে কথা বলেছেন শিহাব আহমেদ । 

কত দিন পর দেশে ফিরলেন?
দেড় বছর পর। ‘এমআর-৯’ সিনেমার শুটিং করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম। ওই সময় আমার জীবনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর আমার স্ত্রী মারা যায়। সে সাড়ে ছয় বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিল। এ কারণে দীর্ঘদিন দেশে আসা হয়নি। এক বছর ধরে আমার ছেলে মানসিকভাবে ভালো নেই। সে জায়গা থেকে মনে হচ্ছিল ওর কাছের মানুষদের সঙ্গে দেখা হওয়াটা খুব দরকার। এবার দেশে আসার উদ্দেশ্য হলো, আমার ছেলের একটা পরিবর্তন, আর আমার অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করা।

ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন কবে থেকে?
২৫ জুলাই থেকে জসিম উদ্দিন জাকিরের ‘মায়া: দ্য লাভ’ সিনেমার শুটিংয় করব। তাঁকে জানিয়েছিলাম, আমার ছেলের স্কুলে গরমের ছুটি শুরু হলে দেশে আসতে পারব। সে হিসেবেই তারা শিডিউল করেছে।
 
আর কোন কোন সিনেমার কাজ বাকি আছে? 
নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘গাঙচিল’ সিনেমায় আমার ডাবিং বাকি আছে। সেটা শেষ করব। ইফতেখার চৌধুরীর ‘মুক্তি’ সিনেমার তিন দিনের শুটিং বাকি আছে। আরেকটা কাজ করার কথা ছিল, তবে সেটা এখন হবে না। সেটা হলো ‘পর্দার আড়ালে’। পরেরবার এসে এ কাজটি শেষ করতে হবে। 

আবারও নিয়মিত অভিনয়ে পাওয়া যাবে আপনাকে? 
পরিকল্পনা করছি বছরের অর্ধেকটা সময় দেশে ও বাকিটা সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার। দেশে থাকার সময়টায় সিনেমার কাজ করতে চাই। এভাবে প্রতিবছর দুটি সিনেমায় অভিনয় করব।

আপনার দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে…
অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটি খুব ভালো লাগার বিষয় যে এক মাসে আমার দুটি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে—‘এমআর-৯’ ও ‘১৯৭১: সেই সব দিন’। বাংলাদেশের সিনেমাও যে এত বড় আয়োজনে করা যায়, সেটার উদাহরণ এমআর-৯। আমার বিশ্বাস, দর্শক সিনেমাটি দেখার পর বিশ্বাস করতে শুরু করবেন, আমাদের দেশের শিল্পীরাও হলিউডের সিনেমা করতে পারে। অন্যদিকে ১৯৭১: সেই সব দিন সিনেমা করতে গিয়ে নস্টালজিক একটা ফিল পেয়েছি। নির্মাতা সেটে যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, তাতে মনে হয়েছে আমি সে সময়েই আছি। এটা নির্মাতা হৃদি হকের পুরো টিমের মুন্সিয়ানা।

এবার ঈদের সময় সিনেমা হলগুলোতে দর্শকের ভিড় দেখা গেছে। বিষয়টি কেমন লাগছে?
এখনো ঈদের সিনেমা হাউসফুল যাচ্ছে, বিষয়টি খুব আনন্দের। ভালো সিনেমা দেখতে দর্শক হলে আসে, এটাই তার প্রমাণ। দেশের বাইরেও সিনেমাগুলো নজর কেড়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

শিল্পীদের মধ্যে কাদা-ছোড়াছুড়িও দেখা যাচ্ছে…
এটা একেবারেই ঠিক নয়। দর্শকদের কেউ শাকিবকে পছন্দ করবে, কেউ নিশোকে, কেউ আবার অন্য কাউকে। এটা নিয়ে কাদা-ছোড়াছুড়ির কিছু নেই। সিনেমার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে কথা বলার সময় সংযত হতে হবে। কার থেকে কে বড়—সেটা বলে প্রমাণ করার দরকার নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় কোনো কাজ করেছেন? 
সেখানে ‘এমআর-৯’ ছাড়া দুটি সিনেমা করেছি। ‘বোন ইয়ার্ড’ নামের একটি সিনেমায় অতিথিশিল্পী হিসেবে কাজ করেছি। সেখানে মেল গিবসনও ছিলেন। এ ছাড়া ‘ফ্ল্যাশ ইট’ নামের আরেকটি সিনেমা করেছি, যেখানে ৭০ শতাংশ আমেরিকার ও ৩০ শতাংশ আমাদের দেশের শিল্পী ছিলেন।

গত বছর সিনেমা ও ওটিটি কনটেন্ট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে পরিকল্পনা কত দূর এগোল? 
আমার জীবনে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অপ্রত্যাশিত ছিল। সেই জায়গা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা একটু সময়ের ব্যাপার। অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার পাশাপাশি কিছু লগ্নিকারকের সঙ্গে আলোচনা করার কথা আছে। যদি আলোচনাটা এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে পরের বছর এসে পরিচালনার কাজে হাত দিতে পারি।

জীবনের কঠিন একটা সময় পার করছেন। এই সময়ে এসে জীবন নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?
কোনো কিছুই স্থায়ী না। প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, পরের দিনটা তোমার জন্য নাও থাকতে পারে। আজকে যে কাজটি করছি, সেটিই হয়তো শেষ কাজ। এখন এ অবস্থার মধ্যে আমার মাথায় সবার আগে যে চিন্তাটা আসছে সেটা হলো, আমি একজন বাবা। এরপর দর্শকের জন্য একজন অভিনয়শিল্পী। সে হিসেবে একজন বাবার দায়িত্ব নিয়েই সামনের দিকে এগোচ্ছি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ