হোম > ছাপা সংস্করণ

চবিতে বারবার সংঘর্ষ, ব্যবস্থা নেই

শাহীন রহমান, পাবনা

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। আজ সোমবার ৫৭৯ দিন পর খুলছে হল। এরই মধ্যে গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহ আমানত হলের সামনে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন। বন্ধ সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে গত দেড় মাসে চারবার সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হলেও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি।

এসব সংঘর্ষের পেছনে আবাসিক হলের সিট দখল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পূর্বের বিরোধ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে বলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েই চলছে। এসব ঘটনায় বিরক্ত চবি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাও বিব্রত। তাঁরা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ গত শুক্রবার দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় শাখা ছাত্রলীগের চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও সিক্সটি নাইন পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হন।

সিএফসির নেতা-কর্মীরা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বলে জানা গেছে। এই পক্ষের নেতা চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল। তিনি বলেন, ‘যাঁরা এসব ঘটনায় জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। কারণ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে চলে। এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো স্থান নেই।’

সিক্সটি নাইনের নেতা-কর্মীরা সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এই পক্ষে আছেন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু। সংঘর্ষগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের উচিত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। আর আমরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবছি। পাশাপাশি আমরা তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করব।’

নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের জেরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে নিজেদের মধ্যে মারামারি করেন ‘বিজয়’ পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এতে চারজন আহত হন। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে আবাসিক হলের সিট দখল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ভিএক্স (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) ও একাকারের নেতা-কর্মীরা। এতে দুজন আহত হন। এ ছাড়া গত ২ সেপ্টেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় সিক্সটি নাইন ও সিএফসি। এদিন দুপক্ষের ৪ জন আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. জাকির হোসেন বলেন, এসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা না নিলে তা আরও বাড়তে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তদন্ত করে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা। পাশাপাশি কারা জড়িত, কেন বারবার এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এসব চিহ্নিত করা।

মো. জাকির হোসেন আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিপক্বতার অভাব থাকতে পারে। বিভিন্ন পক্ষে থাকার কারণে কেউ উসকেও দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা দ্বারা এসব নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনা ঘটলেই আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। তারা (বিবদমান পক্ষগুলো) কোনো অভিযোগ দেয় না। আমরা বারবার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে বললেও তাঁরা অভিযোগ দেন না।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ