খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আবাসিক কোয়ার্টারের দুটি কড়ই গাছ অনুমতির আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া। সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে নিয়ম থাকলেও তার তোয়াক্কা না করে ও দরপত্র ছাড়াই অনেকটা গোপনে কাঠ ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমানের কাছে গাছ দুটি বিক্রি করে দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
উপজেলা পোস্ট অফিসের সামনে কৃষি অফিসের আবাসিক কোয়ার্টার অবস্থিত। এর টিনশেড ঘরের পেছনে দুটি বড় কড়ই গাছ ছিল। ওই ঘরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব সেন, টিটু চক্রবর্তী, লিটন চৌধুরী, মাহবুব হোসেন ও মুকুল হোসেন থাকেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গাছের ডাল-পালায় টিনশেড ঘরের কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। এই অজুহাতে কোনো নিয়ম না মেনে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে গাছ দুটি বিক্রি করে দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা। ইতিমধ্যেই গাছ দুটি কেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য খণ্ড করা হয়েছে। গাছ দুটির বাজারমূল্য ২০-২৫ হাজার টাকা বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, জেলা কৃষি কার্যালয়ে সভায় যোগ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া।
গাছ বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, কোয়ার্টারের টিনে ডাল-পালা পড়ে ঘরের ক্ষতি হয়। তাই বন বিভাগের বন কর্মকর্তার পরামর্শে গাছ কাটার আবেদন দিয়ে অনুমতির অপেক্ষায় থাকায় গাছ কাটা হয়েছে। তবে কত দামে গাছ বিক্রি করা হয়েছে তা তিনি বলেননি।
লক্ষ্মীছড়ি বন কর্মকর্তা মো. গফুর চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। ঘরের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় কৃষি কর্মকর্তার আবেদনটি অনুমোদনের জন্য রাঙামাটি বন বিভাগের জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে; যা অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। যদিও অনুমোদন হওয়ার পর প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাটা উচিত ছিল।’