জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো–নামানো বন্ধ ছিল।
একই সঙ্গে ভারত থেকে ফেরা যাত্রীরা ধর্মঘটের কারণে বাস না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া যশোর সদর থেকেও ১৮টি পথের কোনোটিতেই পরিবহন না চলায় কষ্ট করে গন্তব্যে যেতে হয়েছে যাত্রীদের। অনেকে যেতেই পারেননি।
ধর্মঘটের কারণে আমদানি পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় শিল্প কলকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহতের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে চলমান সমস্যা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে লিটারে ১৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক। তেলের দাম বৃদ্ধিও ফলে যে পরিমাণ ভাড়া বাড়ছে তা আমদানিকারকেরা মানতে চাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মূল্য বৃদ্ধি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর থেকে কোনো ট্রাক পণ্য পরিবহন করবে না।’
ভারত ফেরত যাত্রী আবুল কালাম বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি বেনাপোল বন্দর থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এখন কীভাবে ঢাকা ফিরব বুঝে উঠতে পারছি না।’
এ দিকে জালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে যশোরের ১৮টি রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকেই এসব রুটে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
যশোর পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আবু হাসান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ মন মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা নজিরবিহীন। এক সঙ্গে ডিজেল, কেরোসিন ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। যত দিন দাম না কমবে এ ধর্মঘট চলবে।’