হোম > ছাপা সংস্করণ

ঢাকায় বিকল্প রানওয়ের চিন্তা

সাইফুল মাসুম, ঢাকা

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লেও দেশের প্রধান বিমানবন্দর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুব বেশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তাই ফ্লাইটজটে নিত্যদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দেশি-বিদেশি যাত্রীরা। যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়াতে শাহজালাল বিমানবন্দরে নির্মাণ করা হচ্ছে তৃতীয় টার্মিনাল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রানওয়ে না বাড়িয়ে শুধু টার্মিনাল বানানো হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে না। ফ্লাইটজট কমানোর জন্য নির্মাণ করতে হবে নতুন রানওয়ে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু রানওয়ের সুবিধা আগের মতো রয়ে গেছে। আরেকটা রানওয়ে হলে ফ্লাইট ওঠানামার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাবে এবং ফ্লাইটজটও কমবে।

কিন্তু স্থানসংকটের কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরে আপাতত নতুন রানওয়ে নির্মাণের সুযোগ নেই জানিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি বিকল্প রানওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বিকল্প এই রানওয়ের ডিজাইন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, বিকল্প রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা এখন প্রাথমিক পর্যায়ে। এর জন্য বিদেশি পরামর্শের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। বেবিচক চাইছে বিমানবন্দরের নিজস্ব জায়গায় এই রানওয়ে নির্মাণ করতে। কারণ নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হলে এই প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে। এ ছাড়া নিত্যনতুন আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় শাহজালালের আশপাশে নতুন জমি অধিগ্রহণের সুযোগও কম। বিকল্প রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেবিচকের চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রধান করে একটি কমিটিও করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বেবিচকের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালেক আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিকল্প রানওয়ে হলে ফ্লাইটজট থাকবে না। এ ব্যাপারে স্টাডি চলছে।

তবে বিকল্প রানওয়ে হলেও একসঙ্গে দুই রানওয়ে চালু রাখা যাবে না। একই সঙ্গে দুটি রানওয়ে চালু রাখতে হলে দুই রানওয়ের মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ফুট দূরত্ব থাকতে হবে। শাহজালালে সেই সুযোগ নেই। তাই বিকল্প রানওয়ে নির্মিত হলে বিশেষ প্রয়োজনে সেটি ব্যবহার করা যাবে।

শাহজালালে এখন প্রতিদিন সব মিলিয়ে আড়াই শ ফ্লাইট ওঠানামা করে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে রানওয়ের সংস্কারকাজের জন্য রাতে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এ জন্য রাত্রিকালীন ১০-১৫টি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে অনেক যাত্রীকে। বিকল্প একটি রানওয়ে থাকলে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী দুর্ভোগ এড়ানো যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলছেন, বিকল্প রানওয়ে করে কিছুটা সুফল হয়তো মিলবে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হবে না।

আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, অ্যাভিয়েশন খাতে যাত্রী বেড়েছে। একটি মাত্র রানওয়ে দিয়ে এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে গিয়ে শাহজালাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কারণে রানওয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলে ফ্লাইট ওঠানামাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেকোনো বড় বিমানবন্দরে তাই একাধিক রানওয়ে থাকা জরুরি। শাহজালাল বিমানবন্দরেও শুরুতে দুটি রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। পরে আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন হয়তো তা আর বাস্তবায়নের সুযোগই নেই।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ