পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিভিন্ন নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের মাটি একটি চক্র কেটে নিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন ইটভাটায়। অপরিকল্পিতভাবে চরের মাটি কাটার কারণে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাটিকাটার সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছুই বলছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কারখানা, তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিবছরই জেগে ওঠে অসংখ্য ছোট-বড় চর। এই সব চরের মাটি কেটে বেশি দামে ইটভাটায় বিক্রি করে একটি চক্র। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ২০১৯ সালে স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে ইব্রাহিম শিকদার নামের এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেন। ওই সময়ে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দুই-একজনকে আটক করলেও পড়ে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপজেলার কাছিপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আবু হাসান মিরন বলেন, ‘তেঁতুলিয়া নদীর বাহের চর, চররঘুনাথদি, হাবিবুর চর ও গোপালিয়া পর্যন্ত নির্বিচারে মাটি কেটে নিচ্ছে একটি চক্র। ইটভাটার মৌসুম সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই চক্রটি। চক্রের সদস্যরা হলেন-বিপ্লব আকন, নাছিড় আকন ও মনির হাওলাদার। এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কাটার ও ইট তৈরির শ্রমিক নিয়ে আসেন। এ সকল শ্রমিক দিয়ে যখন স্থানীয়দের চাপে শ্রমিকেরা যখন দিনের বেলা মাটি কাটতে না পারেন তখন রাতে অন্ধকারে এদের দিয়ে মাটি কেটে ট্রলার যোগে ইটভাটায় নিয়ে যান।’
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নাম ভাঙিয়ে ওই চক্রটি নদীর বিভিন্ন চর থেকে মাটি কাটছে।
তবে মাটি কাটার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার বিষয় অস্বীকার করেছেন বিপ্লব আকন, নাছিড় আকন ও মনির হাওলাদার।
বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা অনুপ কর্মকার বলেন, ‘প্রতিদিন কারখানা নদীর বিভিন্ন চর থেকে ২০-২৫টি ট্রলার মাটি কেটে নিয়ে যায় ইটভাটায়। এতে জেগে ওঠা চরে নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। হুমকির মধ্যে পড়েছে আশপাশের বাড়িঘর।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিঙ্গেরাকাঠী গ্রামের এক শিক্ষক বলেন, ‘কারখানা নদী হলো বাখেরগঞ্জ ও বাউফলের সীমানা বরাবর। এই নদীর বাখেরগঞ্জ এলাকা নদীর কুল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫টি ইটভাটা। এই ইটভাটার ধোঁয়ায় বাউফলের বাহের চর সিঙ্গেরাকাঠিসহ একাধিক গ্রাম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’
কাছিপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘এক শ্রেণির মাটি খেকো দুর্বৃত্ত চর থেকে দিন রাত মাটি লুট করে নিচ্ছেন। ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত করা চরের জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করায় চরগুলো নতুন করে হুমকির মুখে পড়বে।’
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাউফলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আল আমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’