হোম > ছাপা সংস্করণ

নিজের অভিধান

সম্পাদকীয়

ইসমত চুঘতাইকে সামনাসামনি যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন তাঁর কলম ও মুখ ছিল সমান ধারালো। লিখতে শুরু করলে শব্দগুলো যেন কলম থেকে বের হওয়ার জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকত।

খুব দ্রুত কাজ করতেন তিনি। তাতে লেখার সময় বানানও ভুল হতো কিছু। কিন্তু বাচ্চার ফ্রক সেলাই করার সময় তিনি যেন অন্য মানুষ। সবদিক মেপে একেবারে পাকা দরজির মতো ফ্রক সেলাই করতেন তিনি।

সাদত হাসান মান্টো আর ইসমত চুঘতাই—দুজনই ছিলেন অসহনশীল। ফলে সামনাসামনি দেখা হলে প্রতিটা কথাতেই ঝগড়া বেধে যেতে পারত। কিন্তু কী অদ্ভুত ব্যাপার, বহুদিন তাঁরা কথাবার্তা বলেছেন, কিন্তু একবার মাত্র তাঁদের বিতর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

সেবার ইসমত ও তাঁর স্বামী শাহেদের আমন্ত্রণে স্ত্রী সাফিয়াকে নিয়ে সাদত হাসান মান্টো এসেছেন তাঁদের বাড়িতে। সে বাড়িটি ছিল বোম্বের উপকণ্ঠে। রাতের খাবারের পর শাহেদ বললেন, ‘মান্টো, তোমার লেখায় এখনো প্রচুর ভুল থাকে।’

মান্টো বললেন, ‘হতেই পারে না।’

রাত দেড়টা পর্যন্ত মান্টো মানলেন না যে তাঁর লেখায় ভুল থাকে। রাত দুটোর দিকে ইসমত এসে স্বামীর পক্ষ নিলেন। তর্ক জমে উঠল। এ সময় কোনো এক কথা বলতে গিয়ে ইসমত ‘দস্তদরাজী’ শব্দটা উচ্চারণ করলেন। এবার মওকা পেয়ে গেলেন মান্টো। বললেন, ‘এ রকম কোনো শব্দ নেই। শব্দটা হলো “দরাজদস্তি”।’ রাত তিনটা বাজল। ইসমত তাঁর ভুল স্বীকার করলেন না। মান্টোর স্ত্রী ততক্ষণে শুয়ে পড়েছেন। শাহেদ তখন পাশের ঘর থেকে একটা অভিধান নিয়ে এলেন। সেখানে ‘দস্তদরাজী’ শব্দ খুঁজে পাওয়া গেল না। কিন্তু ‘দরাজদস্তি’ শব্দটা ছিল।

ততক্ষণে ভোরের জানান দিচ্ছে মোরগ। ইসমত অভিধানটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, ‘যখন আমি নিজে অভিধান তৈরি করব, তখন সত্যিকার শুদ্ধ শব্দ দস্তদরাজী থাকবে তাতে। দরাজদস্তি কোনো শব্দ হলো, যত সব!’

সূত্র: সাদত হাসান মান্টো, গাঞ্জে ফেরেশতে, পৃষ্ঠা ১৭৭–১৭৮

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ