ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছে বিশ্ব। কাতার বিশ্বকাপের ছোঁয়া লেগেছে দেশের সিনেমা হলগুলোতেও। ঢাকা শহরের অন্যতম পুরোনো সিনেমা হল মধুমিতা, রাজধানীর আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ স্টার সিনেপ্লেক্স, সিরাজগঞ্জের রুটস সিনেক্লাবসহ বেশ কিছু সিনেমা হলে দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা।
স্টার সিনেপ্লেক্সের মহাখালীর এসকেএস টাওয়ার ও মিরপুরের সনি স্কয়ারে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের উন্মাদনা দেখেই খেলা দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতি সপ্তাহের শুরুতেই আমরা জানিয়ে দেব কোন হলে কোন সময় কোন খেলা দেখানো হবে।’ সিনেপ্লেক্সে খেলা দেখার টিকিট পাওয়া যাবে কাউন্টারেই। মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এসকেএস টাওয়ারের জন্য ৪০০ এবং সনি স্কয়ারের জন্য ৩৫০ টাকা।
হল সংস্কারের জন্য মধুমিতা হল এক মাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এরই মাঝে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলা দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। মধুমিতার কর্ণধার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘বিশ্বকাপের এক মাস সিনেমা হলটি আধুনিকায়নের কাজ চলবে। এরই মাঝে আমরা বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলো হলে দেখানোর পরিকল্পনা করেছি। হলের কাজ শেষ হওয়ামাত্রই আমরা খেলা প্রদর্শনীর শিডিউল জানিয়ে দেব।’
এদিকে কাতার বিশ্বকাপের সব খেলা দেখানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সিরাজগঞ্জের রুটস সিনেপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সামিনা ইসলাম বলেন, ‘দর্শকদের অনেকেই জানিয়েছেন তাঁরা সিনেমা হলে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে চায়। বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা প্রজন্মের সন্তানদের যেমন মাদক ও মোবাইল ফোনের গেম থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে, তেমনি আমাদের হলের প্রচারটাও হয়ে যাবে।’ রুটস সিনেমা হলে প্রথম দিন ফ্রিতে খেলা দেখালেও দ্বিতীয় দিন থেকে টিকিট কেটে খেলা দেখেছেন দর্শকরা। প্রতি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার টিকিটের দাম কিছুটা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সামিনা ইসলাম।
এ ছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, রাজশাহীর আনন্দ সিনেমা হলসহ আরও বেশ কিছু সিনেমা হলে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।