বছরের যেকোনো সময় ও মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। তবে বছরের বিশেষ কিছু দিন ও মুহূর্ত রয়েছে, যা দোয়া কবুলের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এখানে হাদিসে উল্লিখিত কয়েকটি বিশেষ সময়ের কথা তুলে ধরা হলো—
এক. রমজানের প্রতি রাতে ও দিনে অনেক লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং মুমিনের দোয়া কবুল হয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মাহে রমজানের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, হে পুণ্য অন্বেষণকারী, অগ্রসর হও। হে পাপাচারী, থামো, চোখ খোলো।’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’ (আহমদ)
দুই. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ব্যর্থ হয় না। ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, ন্যায়বিচারক বাদশাহর দোয়া এবং মজলুমের দোয়া।’ (ইবনে মাজাহ)
তিন. সারা বছর রাতের শেষ তৃতীয়াংশের দোয়া কবুল করা হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে কাছের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, “কে আমাকে ডাকছ? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইছ? আমি তাকে তা দেব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।”’ (মুসলিম)
চার. জুমার দিনের দোয়া কবুল হয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘জুমার দিনে ১২ ঘণ্টা রয়েছে। তাতে এমন একটি সময় রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই দেন। অতএব, তোমরা আসরের শেষ সময়ে তা তালাশ করো।’ (আবু দাউদ)
এ ছাড়া জমজমের পানি পান করার সময়ে এবং আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক