দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার খুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। এতে আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। লাল-নীল বাসে করে শহর থেকে ক্যাম্পাসের দিকে আসছে শিক্ষার্থীরা। অথচ এ দৃশ্য প্রায় ভুলতে বসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে বিভিন্ন বিভাগ। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়।
গত বছরের ১০ এপ্রিল করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কুবিও পাঠদান বন্ধ রাখে। অবশেষে মহামারি পরিস্থিতি সামলে দীর্ঘ ১ বছর ৬ মাস ২৩ দিন পর শুরু হয়েছে পাঠদান।
এদিকে গতকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, বাবুই চত্বর, সানসেট ভ্যালি, মুক্তমঞ্চ, গোলচত্বরসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শহীদ মিনারের রাতের আড্ডা, বিকেলে খোলা ক্যাম্পাসে পাখি হয়ে উড়ে বেড়ানো কিংবা রাতে ভিসি টঙে গিটারের সুরে চায়ে মুখ ভেজানো সবই মেতে উঠেছে আগের মতো।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ওয়াফি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সশরীরে আজ ক্লাস করতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। ভার্চ্যুয়াল ক্লাস আর সশরীরের ক্লাস করার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।’
অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ক্লাস শুরু হওয়ায় আমরাও আনন্দিত। চেনা মুখগুলো আবার সরাসরি দেখতে পাচ্ছি। এর চেয়ে ভালো বিষয় আর হয় না। করোনাকালীন বন্ধে যে সেশনজটে শিক্ষার্থীরা পড়েছে, তা কাটিয়ে আবার তাঁদের নিয়ে এগিয়ে যাবো এই আশা রাখি।’
নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষকের পরিচয় শিক্ষার্থীরা ৷ তারা আবার আগের মতো ক্লাস করবে, আড্ডা দেবে ৷ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি খেয়াল রেখেই আমরা শ্রেণি কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাব।’
এদিকে ক্লাস শুরু হওয়ার প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পরিবহন সেবা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিচ্ছি।’