হোম > ছাপা সংস্করণ

ফুলটাইম নেতা—ছিনতাইকারী

সম্পাদকীয়

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তপু চন্দ্র ঘোষ ছিলেন ফুলটাইম ছাত্ররাজনীতিবিদ। এরপর এক মতলবে তিনি হয়ে যান ছিনতাইকারী। সে বিষয়েই একটা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে আজকের পত্রিকার শেষের পাতায়।

আমাদের আজকের আলোচ্য নেতাটি হচ্ছেন ছাত্রলীগের। যদিও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তপু চন্দ্র ঘোষ শহরে ঢোকার পর সঙ্গদোষে নষ্ট হয়ে গেছেন; তবুও তাতে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ তাদের সাংগঠনিক দায় এড়াতে পারে না। যদি তপু নষ্ট হয়ে গিয়েই থাকেন, তাহলে এখনো তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি থাকেন কী করে?

মতলবি এই ফুলটাইম ছাত্রলীগ-নেতার টাকা কামানোর ধান্দাটি দারুণ! একেবারে নাটকীয়। কেউ চাইলে তাঁকে নিয়ে নাটকও ফেঁদে বসতে পারেন। একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যস্থতা করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেছেন, ছিনতাই করেই তো সুখে থাকা যায়! মোটামুটি সহজ পথেই এগোনো যায় এবং তাতে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থের মালিক হওয়া যায়। এরই মধ্যে পাঁচটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে তিনি এবং তাঁর দল! যে সহজ উপায়ে তিনি ও তাঁর দল ছিনতাই করে বেড়াত, সে বিষয়টি খোলাসা করা দরকার। কোনো প্রবাসী যদি সোনার দোকানে স্বর্ণ বিক্রি করেন, তাহলে গুপ্তচর-মারফত তপুর দলের কাছে পৌঁছে যেত সেই খবর। টাকা নিয়ে ফেরার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাঁরা প্রবাসীর কাছ থেকে টাকাপয়সা কেড়ে নিয়ে চম্পট দেন।

একটা সময় ছিল, যখন রাজনীতিতে ফুলটাইমারদের কদর ছিল। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজটাই তাঁরা করতেন। কাজটি তাঁরা সততার সঙ্গে করতেন। চারদিকে দলের লোকজন তাঁদের বাহ্বা দিতেন। কতটা ত্যাগী হতে পারলে পরিবার-পরিজন ছেড়ে পার্টিকে দিন-রাতের পুরোটা সময় দেওয়ার মতো মানসিকতা তৈরি হয়, তা নিয়ে প্রশংসাবাক্য শুনতেন তাঁরা। লাভের মধ্যে এটুকুই। এই ফুলটাইমারদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে কত ডাকসাইটে নেতাই যে ফুলে-ফেঁপে উঠলেন, সে গল্পও বড় মর্মান্তিক; বিশেষ করে বামপন্থী দলগুলোয় এই প্রতারণা চলেছে বহুদিন। সাধারণ কর্মীদের কৃচ্ছ্রসাধনের বাণী শুনিয়ে নেতারা অর্থবান হয়েছেন, এমন নজির আমাদের দেশেই আছে এবং আরও ভয়ংকর কথা হলো, ক্ষমতার ভাগ পেলে তাঁরাও যে আর সব ‘ইজম’-এর মানুষের মতোই দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠতে পারেন, তারও নজির কম নয়। যাঁরা একসময় ফুলটাইমার বা হোলটাইমার হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের দুর্দশার কথা বলে থাকেন।

ফুলটাইমার বা হোলটাইমার হওয়াটা খারাপ কিছু নয়। এতে সেবার মানসিকতা বাড়ে। কিন্তু আমাদের চারদিকে অর্থলোলুপগোষ্ঠী এতটাই শক্তিশালী যে এখন স্বেচ্ছাসেবী হয়ে ওঠা কষ্টকর। আর হোলটাইমার হওয়া ছেলে যখন ছিনতাই দলের নেতা হয়ে যান, তখন তার দায় তো নিতেই হবে তাঁর সংগঠনকে।

ছাত্রলীগের এই নেতা শুধু নিজের জীবনকেই কলুষিত করেননি, সংগঠনকেও নিচে নামিয়েছেন। ছাত্রলীগের উচিত, সাংগঠনিকভাবেও তাঁকে শাস্তি দেওয়া। বিচারক তো শাস্তি দেবেনই। আমরা এই ঘটনার পরিণতি দেখতে চাই।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ