‘সুচিত্রা সেন একসময় দত্তা করেছিলেন। তাঁর অভিনয় দেখে বড় হয়েছি। এখন আমি সেই বিজয়া চরিত্রে অভিনয় করছি। এর জন্য কোনো ভয় করেনি। বরং আমি গর্বিত যে সেই চরিত্রে আমি এখন অভিনয় করছি। এটা আমার অভিনয়জীবনে একটা বড় প্রাপ্তি।’ বললেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এবার তিনি ‘দত্তা’ সিনেমায়। অভিনয় শুধু নয়, সিনেমাটি প্রযোজনাও করেছেন ঋতুপর্ণা।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই কালজয়ী সৃষ্টি ১৬ জুন আবার বড় পর্দায় আসছে নির্মল চক্রবর্তীর পরিচালনায়। তাতেই বিজয়া চরিত্রে হাজির হচ্ছেন ঋতুপর্ণা। জয় সেনগুপ্ত আছেন নরেনের চরিত্রে। বিলাসের ভূমিকায় সাহেব চট্টোপাধ্যায়। রাসবিহারী চরিত্রে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। এ ছাড়া অভিনয়ে আছেন প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, তপতী মুনশি, দেবলীনা কুমার, সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
১৯৭৬ সালে সুচিত্রা সেনকে নিয়ে অজয় কর তৈরি করেছিলেন ‘দত্তা’ সিনেমা। সেখানে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শমিত ভঞ্জ, উৎপল দত্ত, গীতা দে, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, শৈলেন মুখোপাধ্যায় ও দিলীপ বসু। তারও আগে ১৯৫১ সালে ‘দত্তা’কে প্রথম পর্দায় নিয়ে আসেন পরিচালক সৌমেন মুখোপাধ্যায়। এ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সুনন্দা বন্দ্যোপাধ্যায়, পুর্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, অহীন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ। দুটি সিনেমাই সে সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
তবে সময় অনেক এগিয়েছে। এ সময়ে এসে ‘দত্তা’ কতটা প্রাসঙ্গিক? ঋতুপর্ণা বলেন, ‘দত্তা একটা চিরন্তন উপন্যাস। এর বিষয় এবং বিজয়ার চরিত্র খুবই প্রাসঙ্গিক, সেই সময় থেকে এই সময়েও। একটা ফিউডাল সোসাইটিতে কীভাবে নিজের জায়গা করে একজন নারীর ভয়েস অনেক দূর যেতে পারে, সেই দিনে দাঁড়িয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিন্তু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমার কাছে দত্তা চিরকালীন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিজয়ার মতো চরিত্র ঘরে ঘরে প্রয়োজন। তাই আজকের প্রেক্ষিতে ভীষণ বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক চরিত্র এটা।’