কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর বড়ছড়া গ্রামের ‘ঝাউবন বিদ্যা নিকেতন’। এ স্কুলটি ৩০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৪ বছর ধরে বেদখল ছিল। গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলটি রাজারবাগী পীরের অনুসারীদের কাছ থেকে দখল বুঝে নেয়। আজ সোমবার বিদ্যালয়টিতে ১৪ বছর পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
জানা গেছে, ইতালির ক্যাথলিক খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারক ফাদার লুপি ১৯৯১ সালে কক্সবাজার শহরের ডায়াবেটিস পয়েন্টের সৈকত তীরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দরিয়ানগর ঝাউবন বিদ্যা নিকেতন। দুই বছরের মাথায় সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে কয়েক শ পরিবারকে উচ্ছেদ করে দরিয়ানগরে পুনর্বাসন করা হয়। সে সময় স্কুলটিও সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক আহমদ গিয়াস জানান, ২০০৭ সালে রাজারবাগী পীরের অনুসারীরা স্কুলটি দখল করে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। এলাকার লোকজন বিরোধিতা করার সাহস পাননি। পরে তাঁদের কর্মকাণ্ডে ভণ্ডামি ধরা পড়লে সবাই সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুল ও মসজিদ রাজারবাগী পীরের থেকে দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, অনশন ও সমাবেশ করেন।
গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে এলাকার মসজিদ ও স্কুল থেকে রাজারবাগীদের আস্তানা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, দখলমুক্ত স্কুলটিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যুবলীগ নেতা পারভেজ মোশাররফ বলেন, রাজারবাগী পীরের অনুসারীরা স্কুল দখল করে সেখানে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ঝোলানোর পর জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড ভেঙে ফেলেছিলেন। জাতীয় পতাকার পরিবর্তে তাঁরা তাদের পীরের নামে পতাকা তোলেন।