কিউকম ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা দুই দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেও পুলিশি বাধায় তা চালিয়ে যেতে পারেননি। রাজধানী ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গতকাল সকালে আমরণ অনশন শুরু করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু বেলা ১টার দিকে পুলিশ এসে তাঁদের সরিয়ে দেয়।
এরপর পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যান গ্রাহকেরা। সারা দিন সেখানে থাকার পর বিকেলে আবারও শাহবাগে অবস্থান নেন তাঁরা। কিন্তু সন্ধ্যা হতেই পুলিশ এসে আবারও তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে গতকাল সন্ধ্যায় নিজেদের কর্মসূচি সমাপ্তির কথা ঘোষণা করেন কিউকম কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেসি আলম হৃদয়।
জেসি আলম হৃদয় বলেন, ‘সারা দিন বারবার বাধা আসার পরও আমরা অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যায় পুলিশ এসে আমাদের জানায়, রাতে কোনোভাবেই আর বসতে দেওয়া হবে না। এ অবস্থায় আমরা কর্মসূচির সমাপ্তি টানতে বাধ্য হই।’
কিউকম গ্রাহকদের দুই দফা দাবি হলো, আইনি নজরে রেখে কিউকম-প্রধান রিপন মিয়াকে মুক্তি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া এবং পাঁচ দিনের মধ্যে ফস্টার পেমেন্ট গেটওয়ে আনফ্রিজ করে কিউকমের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী রিফান্ড কার্যক্রম শুরু করা। অনশনে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের প্রত্যেকেরই লক্ষাধিক টাকা কিউকমে আটকে আছে। তবে এ জন্য মূল দায় কিউকমের নয়, বরং পেমেন্ট গেটওয়ে ফস্টারের বলে মনে করেন তাঁরা।
অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কিউকমের মালিক রিপন মিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন। গত ৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন কিউকম ভুক্তভোগীরা।