মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নবগঙ্গা নদী নাব্যতা হারিয়ে মরে যেতে বসেছে। বালু ও পলি জমে ক্রমে ভরাট হয়ে গেছে নদীর তলদেশ। কমে যাচ্ছে পানির প্রবাহ। নদীর বুকে জেগে উঠছে নতুন চর। এ কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে দেখা দিয়েছে সেচ সংকট। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই দুটি নদীর চর জবরদখলে নিয়ে এখন করছেন চাষাবাদ।
কয়েক যুগেরও বেশি সময় পলিযুক্ত পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নবগঙ্গা নদে বন্ধ থাকায় নাব্য হ্রাস পেয়েছে। ধীরে ধীরে নদী হয়ে গেছে প্রায় মৃত। এ ছাড়া নদীর দুই পারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণ করে দখল করে চলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বর্তমানে নদটি শুকিয়ে যাওয়ায় তলদেশে চাষ করা হচ্ছে বোরো ধান।
উপজেলার খরস্রোতা নবগঙ্গা এক সময় নদীপাড়ের মানুষের কাছে ছিল মূর্তিমান আতঙ্ক। কিন্তু বর্তমানে নদীটি নাব্য হারিয়ে ফেলায় বর্ষাকালেও আর ভয়াল রূপ চোখ পড়ে না। নৌকায় পাল তুলে মাছ ধরার দৃশ্য অথবা বড় বড় নৌকায় পণ্য বোঝাই দিয়ে গুণ টেনে চলাচলের সেসব দৃশ্য কেবলই অতীত। নবগঙ্গার বুকজুড়ে এখন করা হচ্ছে ফসল চাষ। নবগঙ্গা নদীর বুকে পলি জমে জেগে উঠেছে বিশাল চর। খালে পরিণত হয়েছে নদীটি। সেই খালের পানি দিয়ে বেশির ভাগ অংশে চাষ হচ্ছে ধান। দীর্ঘদিন ধরেই ড্রেজিং করে এ নদে আবারও প্রাণ ফেরানোর দাবি জানাচ্ছেন পরিবেশবাদীরা।
নদীপাড়ের ভাবনপাড়া এলাকার কৃষক কাশেম আলী বলেন, ‘নদীডা আগে রাক্কস ছেলো। হ্যান্নে সেইরম পালোয়ান নাই। নদী মরে শুহোয় গেচে। প্রত্যেক বছরে নদীর বুহি আবাদ করে ম্যালা ধান ঘরে উঠোই।’
স্থানীয় কৃষক জলিল শেখ বলেন, নদীতে চর পড়ায় আমরা পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেয়ে চাষাবাদ করে ভালো আছি।
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, নবগঙ্গা নদীর নাব্য ফিরে পেতে খনন কাজের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। কাজও শুরু হয়েছে। তবে এটা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।