বরগুনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করেছেন ওই কলেজেরই উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী।
ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘কাল থেকে ইউনিফর্ম পরে তারপর আসবা। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘একদিনের মধ্যে সব জোগাড় করব কেমনে? তখন অধ্যক্ষ বলেন, ছয় মাস আগে আমি বলছি। এখন বাসায় যাও।’ এ সময় এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্যার এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায়।’ এ কথা শুনে অধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে পেছন থেকে শার্ট ধরে ধাক্কা মারতে মারতে সামনের দিকে নিয়ে যান।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধ্যক্ষের মারধরের শিকার হয়েছেন আতাউল্লা নামের উচ্চমাধ্যমিক বাণিজ্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী।
এ নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় আতাউল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সহপাঠী ও বাইরের লোকজনের সামনে প্রিন্সিপাল স্যার আমার গায়ে হাত তুলেছেন। এমনকি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দিয়েও লাঞ্ছিত করিয়েছেন। আমি তার আচরণে ব্যথিত।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ইউনিফর্মের জন্য শার্ট, প্যান্ট ও জুতো এবং ব্যাগ কেনার জন্য দোকান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অনেকেই অপেক্ষাকৃত কম দামে অন্য দোকান থেকে এ সব কিনেছেন। তিনি হয়তো এই কারণেই শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছেন।
এ নিয়ে জানতে শনিবার রাত আটটার দিকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে, কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি বলেন, কলেজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বহিরাগতদের শনাক্ত করার জন্য শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ডের বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এতে কিছু শিক্ষার্থী উচ্ছৃঙ্খল হয়ে মিছিল করেন। তখন তাঁদের বাধা দিতে গেলে এমনটা হয়েছে।
পুলিশ ডাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম পরিপূর্ণ ভাবে পরে কলেজে আসতে বলার জন্য রুমে ডাকা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
নির্দিষ্ট দোকান থেকে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম বানানো ও ব্যাগ জুতা কেনা বাধ্যতামূলক কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশ আমি দিইনি।’