কুমিল্লা নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় আগে থেকে ঘোষণা দেওয়া ছাড়াই হঠাৎ বাসা-বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল সোমবার সকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে স্বাভাবিক হয় গ্যাস সরবরাহ।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানায় সংযোগ লাইনে ক্রুটি দেখা দেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তারা বাধ্য হয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখেন। এদিকে সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।
জানা গেছে, কুমিল্লার কোটবাড়ি নন্দনপুর হাইওয়ের পাশে বাখরাবাদের গ্যাস সরবরাহ লাইন রয়েছে। যা দিয়ে শহরের বেশির ভাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সেখানে পিডিবির দুটি বড় খুঁটি রয়েছে। খুঁটির পাশে গত রোববার বিকেলে গ্যাস লাইনে লিকেজ ধরা পড়ে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুড়ে যায় পাশের ১৪টি দোকান। এ ঘটনায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। সে সময় আরও বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দেয়। রাত ১টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও লাইনের মেরামত করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয় বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ।
নগরীর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা হাবিবা রহমান বলেন, গতকাল তিনি মেহমানদের খাবারের দাওয়াত দিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন।
নগরীর সুজানগর এলাকার মোবারক হোসেন বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় খাবার কিনে খেয়েছি।’
নগরীর কান্দিরপাড় কিং ফিসার রেস্টুরেন্টের মালিক মাজহারুল ইসলাম বিপু বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে সিলিন্ডার দিয়ে হোটেলের রান্নার কাজ করেছি। দোকানে ক্রেতাদের বাড়তি চাপ ছিল।’
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শংকর মজুমদার বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু লাইন মেরামত করতে পারিনি। সোমবার সকাল ৮টায় আবার কাজ শুরু হয়েছে। পরে সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সংযোগ স্বাভাবিক হয়। পল্লী বিদ্যুৎ ও সওজের অব্যবস্থাপনার কারণে মাঝেমধ্যেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’