এক সপ্তাহ আগে রোপণ করা ধানের চারাগুলো এখনো ঠিকঠাক মাথা সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। এর আগেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে সেগুলোকে। সদ্য ফেলা চকচকে মাটির ওপর হুইলচেয়ারে বসা প্রতিবন্ধী যুবক আব্দুল করিমের চোখ বেয়ে পড়ছে পানি। পাশে তাঁর বৃদ্ধ মা রাশিদা বেগমের অসহায় ছোটাছুটি।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর শহরের ভাংনাহাটি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল করিমের বাবা আতব আলী শেখ বেঁচে নেই। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। অবলম্বন বলতে বাড়ির পাশে ছোট্ট মুদি দোকান আর বাবার রেখে যাওয়া ৫৩ শতাংশ জমি। সেই জমিতে নজর পড়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। মাদ্রাসার জন্য জমি উঁচু করার নাম করে রাতের আঁধারে ভরাট করে ফেলা হলো সেই জমি।
প্রতিকার পেতে শ্রীপুর থানা ও পৌরসভায় দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল করিম। অভিযুক্তরা হলেন শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. ফারুক (৫০) ও একই গ্রামের মৃত জব্বার সরকারের ছেলে লিয়াকত আলী (৫২)। ফারুক ভাংনাহাটি রহমানির কামিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও লিয়াকত একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী।
আব্দুল করিমের অভিযোগ, ‘গত বুধবার গভীর রাতে অভিযুক্তরা আমার ধানের জমিতে মাটি ফেলে দখলে নেয়। অভিযুক্ত দুজন সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে আমার ফসলি জমিতে মাটি ফেলে ভরাট করেছে। সকালে জমিতে গিয়ে জমি ভরাটের চিত্র দেখে এসেছি। আমি প্রতিবন্ধী মানুষ, আমার কী করার আছে। জমি রক্ষায় থানা এবং মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
স্থানীয় পোলট্রি ব্যবসায়ী আসফাক হোসেন বলেন, ‘এভাবে রাতের আঁধারে প্রতিবন্ধী নিরীহ মানুষের জমিতে মাটি ভরাট করে দখল করে নিয়েছে। এটা কী ধরনের মানসিকতা। এক সপ্তাহ আগে জমিতে ধান রোপণ করেছে, আজ দেখে মাটি ভরাট।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. ফারুক বলেন, ‘স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে জমি ভরাট হয়েছে। এখানে যতটুকু জমি ভরাট হয়েছে, অন্য স্থান থেকে ততটুকু জমি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ অভিযুক্ত তো আপনি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু কাউন্সিলরকে সহযোগিতা করেছি। আমি জমি দখল করিনি।’
ভাংনাহাটি রহমানির কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাব্বির আহম্মদ মমতাজী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাদ্রাসার জন্য কেনা নিচু জমি ভরাটের জন্য পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কামরুজ্জামান মন্ডলকে প্রধান করে একটি প্রজেক্ট কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। অন্য কারও জমিতে মাটি ভরাটের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কারো জমি দখল করবে না।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান বলেন, একজন প্রতিবন্ধী যুবকের জায়গা দখলের অভিযোগ এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।