নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালি এলাকায় গুলি করে তিনজনকে হত্যা মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অপর ৭ জন রয়েছেন পলাতক। গত সোমবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দার (ডিবি) ইন্সপেক্টর রাধেশ্যাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার বি এম নুরুজ্জামান।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ জাকারিয়া, তার বড় ভাই শেখ মিলটন, তার ছোট ভাই নগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি শেখ জাফরিন হাসান, জাকারিয়ার চাচাতো ভাই রেজওয়ান শেখ রাজু ও জাহাঙ্গীর, জাফরিনের শ্যালক আরমান হোসেন, রহিম আকুঞ্জি রয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ১৫ জন আসামির মধ্যে ১১ জন বিভিন্ন সময়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহতরা হলেন, পাটকল শ্রমিক নজরুল ইসলাম, দিনমজুর গোলাম রসুল ও কলেজছাত্র সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকারীদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মো. জাকারিয়া শেখ মশিয়ালি সিঅ্যান্ডবি’র ঘরের একটি কক্ষে ৩ রাউন্ড বন্দুকের গুলি ও ২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি নিজে রেখে বাদীর চাচাতো ভাই মুজিবর শেখকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাদীসহ পাড়ার আরও কিছু লোক মুজিবরকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কারণ জানতে শেখ জাফরিনদের বাড়ির সামনে যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মিল্টন শেখ গুলি করলে নজরুল শেখ মারা যান। জাফরিন শেখের গুলিতে মারা যান গোলাম রসুল। জাকারিয়ার গুলিতে আহত হয় বাদীর ছেলে সাইফুল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাইফুল।
পরে খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।