চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নে মহানন্দা নদীতে ফের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার। ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী ঘরবাড়ি। ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক স্থাপনা ও কৃষিজমি। গত দুই দিন আগে নদীর তীরবর্তী বেশ কিছু গাছ ভেঙে পড়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চৌডালা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর, উত্তর ইসলামপুর ও বালুটুঙ্গি এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, গাছ, ফসলি জমি, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মহানন্দা নদীতে পানির তোড় বাড়ায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গতকাল রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর এ সময় এলাকাবাসীকে চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেও কোনো প্রতিকার পাননি তাঁরা।
কৃষক জাইদুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে নদীর ভাঙনে তাঁর বাড়িসহ আশপাশের ১০টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চরম হতাশার মধ্যে দিন পার করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নদী ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সাজেদা বেগম নামের এক বৃদ্ধা জানান, নদী ভাঙনে বাড়ির একটি গরুসহ অনেক মালামাল ভেসে গেছে। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর ছেলে পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। উদ্ধার করে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করিয়েছেন। নদী ভাঙনের আতঙ্কে ঠিকভাবে রাতে ঘুমাতে পারেন না বলে জানান তিনি। টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহা. শাহ আলম বলেন, দক্ষিণ ইসলামপুর, উত্তর ইসলামপুর ও বালুটুঙ্গি এলাকায় প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবার হঠাৎ ভাঙছে, আবার হঠাৎ থেমে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে পানি কমে ভাঙন থেমে গিয়েছিল। গত চার দিন থেকে ফের ভাঙতে শুরু করেছে। এলাকার মানুষ খুব কষ্টে দিন পার করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভারপ্রাপ্ত উপপ্রকৌশলী মো. ময়েজ উদ্দিন বলেন, এবার চৌডালা ইউনিয়নে ২-৩ বার ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত পাঁচ দিন থেকে পানি বাড়লেও আজ (রোববার) কমতে শুরু করেছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় আমরা নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছি।