ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যখন চাকরি শুরু করেন দপ্তরি ইউনুচ আলী, তখন ছিল টিনের বেড়ার ঘর। পরে পাকা ভবন করার সময় মাথায় করে ইটও টেনেছেন তিনি। ৪৭ বছর ঘণ্টা পিটিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ঘণ্টা বাজিয়ে দপ্তরি জীবনের অবসর নিয়েছেন তিনি।
বিদায় বেলায় চোখের পানি ফেলে ইউনুচ বলেন, ‘জীবনের সব স্মৃতিই এই বিদ্যালয়কে ঘিরে। বিদ্যালয়কে ছাড়তে চাইনি। তাই সীমানাপ্রাচীরের সঙ্গে জমি কিনে বাড়ি করেছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিল আমার সন্তানের মতন। আজ সব ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে।’
জানা গেছে, উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের গ্রাম জালালপুরের শিক্ষানুরাগী মানুষেরা ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত হয়। আজ বিদ্যালয়ে নতুন নতুন ভবন রয়েছে। ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বিদ্যালয়ের দপ্তরি ইউনুচ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শাঁখারিদহ গ্রামের বাসিন্দা।
ইউনুচ আলী জানান, জালালপুর গ্রামে তাঁর মামা বাড়ি। তাঁর বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখন মামা নুর আলী মণ্ডল তাকে ডেকে পাঠান। এর পর মামা জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে চাকরিতে ঢুকিয়ে দেন। সেই থেকে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. আক্তার জাহান বলেন, ইউনুচ আলী অত্যন্ত হাসি-খুশি একজন মানুষ। সব শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। বিদ্যালয়ের সবকিছুই তাঁর জানা ছিল। বিপদ-আপদে তাঁর তুলনা ছিল না।