রাজধানীর পূর্ব রামপুরার মেসার্স সূচনা রাইস এজেন্সি থেকে গতকাল শনিবার ৫২০ টাকায় ৮ কেজি চাল কেনেন কাউছার হোসেন নামে এক আইনজীবী। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল তিনি কিনেছেন ৬৫ টাকা দরে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এই চাল তিনি কিনেছিলেন ৬৩ টাকায়।
তবে মুদি দোকানি শাহাদাত হোসেনের ভাষ্য, তাঁরা আগের দামেই চাল বিক্রি করছেন। তবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আগামী দু-এক দিনের মধ্যে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামেই প্রভাব পড়বে।
করোনার প্রভাবে গত বছরের মার্চ-এপ্রিল থেকেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে। চাকরি হারান অনেকে। এমন পরিস্থিতিতেও বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম দফায় দফায় বেড়ে এখন তা মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আর এবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম। এতে বাজারে এরই মধ্যে আরও বেড়েছে অনেক নিত্যপণ্যের দাম।
রাজধানীর পুরান ঢাকার বাবুবাজারের মেসার্স ফরিদ রাইস এজেন্সির বিক্রয় প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন জানান, পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির খবরে বাজারে সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি ৫০-৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পাইকারি চালের ব্যবসায়ীরা জানালেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ৩-৫ হাজার টাকা বেড়েছে। ফলে তাঁরাও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে রাজধানীর খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে থেকেই বাজারে চালের দাম কিছুটা বেশি।
টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গতকাল প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮-৬৮ টাকায়, যা আগে ছিল ৫৮-৬৬ টাকা। মোটা ও মাঝারি মানের চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু ৪৮-৫০ টাকার ময়দা ৪৮-৫২ টাকায়, ৬৯০-৭৫০ টাকার ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ৭০০-৭৬০ টাকায় এবং ২২-২৬ টাকার আলু গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৪-২৮ টাকায়।