গঙ্গাচড়ায় ভূমি অফিসের সরকারি জায়গা জবরদখলকারী ব্যবসায়ীদের ২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
গতকাল রোববার উপজেলার গজঘণ্টা তহশিল অফিস এলাকায়এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) নয়ন কুমার সাহা অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
অভিযানকালে কার্যালয়ের দক্ষিণ প্রাচীরসংলগ্ন ১৬টি বিভিন্ন পণ্যের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। সেই সঙ্গে প্রাচীরের পশ্চিম পাশের ১৫টি দোকানের মধ্যে ছয়টির জায়গা খালি করা হয়। অপর নয়টি দোকানের মধ্যে সাতটি গজঘণ্টা বাজার জামে মসজিদ কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাকি দুটি দোকান পরিচালনা করছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা আলী হোসেন। তিনি দোকানঘরগুলো নির্মাণ করে স্থানীয় দুজন ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দিয়েছেন। তাঁরা হলেন মুদি দোকানি লেবু মিয়া ও চা-পান বিক্রেতা রব্বানী।
মুদি দোকানি লেবু মিয়া জানান, তিনি আলী হোসেনের কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। এ জন্য তিনি প্রতি মাসে দোকানভাড়া ও বিদ্যুৎ খরচসহ ৮০০ টাকা আলী হোসেনকে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া, মকসুদার রহমান, বাদশা মিয়া ও সুরুজ মিয়াসহ অনেকে জানান, গজঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. আজিজুল ইসলাম, হাটের ইজারাদার ও বিগত তহশিলদারেরা গোপন লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে দোকানগুলো স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘দোকান নির্মাণের কোনো লেনদেনে আমি জড়িত নই। সামনে নির্বাচন, তাই আমার বিরোধী পক্ষরা বিভিন্ন অপবাদ রটাবে, এটাই স্বাভাবিক।’
এলাকাবাসী আরও জানান, আলী হোসেন প্রভাবশালী ও স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা হওয়ায় তিনিও এখানে জবরদখল করে ঘর বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা বলেন, তিনি অভিযানের সময় জানতেন না যে দুটি দোকান আলী হোসেনের। এখন এগুলো উচ্ছেদে আবার অভিযান চালাবেন।