পুলিশের বিভাগীয় মামলাজটের কারণে বিপুলসংখ্যক সদস্যের কর্মক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাহিনী। এ জন্য পুলিশের বিভাগীয় মামলা দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশে নিয়মিত অপরাধ পর্যালোচনা সভার দ্বিতীয় দিনে গতকাল এই তাগিদ দেওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার সভা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় এক দিন বাড়িয়ে মঙ্গলবার (আজ) শেষ হবে। গতকালের সভায় পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশনস উইংয়ের কার্যক্রম, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট, ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
এদিকে সম্মেলন নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মুলতবি বিভাগীয় মামলা, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা, নতুন নিয়মে কনস্টেবল নিয়োগের ব্যাপারে সভায় আলোচনা হয়। এ ছাড়া পুলিশের পদবিন্যাস ও পদ সৃষ্টি, গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় বিভাগীয় মামলা দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কনস্টেবল নিয়োগের স্বচ্ছতার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আইজিপি বেনজীর আহমেদ হুঁশিয়ার করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ১৮৬১ সালের পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (পিআরবি) ও ১৯৪৩-এর কিছু প্রবিধান সংশোধন করে আটটি ধাপ অনুসরণ করে নতুন নিয়মে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ১১ ধাপ পেরিয়ে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ দেওয়া হবে এসআইদের। সহজ পদ্ধতিতে কীভাবে দক্ষ ও মেধাবী জনবল নিয়োগ দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সভায় আলোচনা করা হয়। সভায় নিয়োগ-পদোন্নতি আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করার ব্যাপারে পর্যালোচনা হয়।
আজ মঙ্গলবার আইজিপির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষ হবে।