হোম > ছাপা সংস্করণ

মরণের পর বয়স্ক ভাতা?

সম্পাদকীয়

ভাতা কর্মসূচি চালু করা হয়। এটি শেখ হাসিনা সরকারের একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ হিসেবে সব মহলেরই প্রশংসা পেয়েছে। ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। তারপরও এখনো হয়তো তালিকার বাইরে আছেন এবং সে জন্য এ নিয়ে আক্ষেপ, দুঃখ, সমালোচনাও কম নেই। যাঁরা স্থানীয়ভাবে তালিকা তৈরির কাজটি করেন, তাঁদের উদাসীনতা, পক্ষপাত, দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির কারণে হয়তো যাঁর নাম তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থাকার কথা, তাঁর নামটিই বাদ পড়ে যায়। তাই তালিকা তৈরির কাজটি আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করা জরুরি।

আজকের পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত একটি খবর হয়তো অনেকের নজরে পড়েছে। ওই খবরের সূত্র ধরেই ওপরের কথাগুলো বলা হলো। খবর থেকে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামের দেওঘর ইউনিয়নের সাভিয়ানগর গ্রামের মৃত আমর উদ্দিনের স্ত্রী কমলা বেগম। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা। বড় মেয়ে ও নাতনির স্বামী মারা গেছে। ছোট মেয়ে কোনোরকমে চলেন। কমলার ভরণপোষণ করেন না ছেলেও। পাননি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা। জোটেনি গৃহহীন কমলার ভাগ্যে সরকারি ঘর। ফলে তাঁকে বেঁচে থাকার জন্য হাত পাততে হয় এর-ওর কাছে। উপজেলার আখড়া বাজারে বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ভিক্ষা করতেও দেখা যায় কমলা বেগমকে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, লাঠিতে ভর দিয়ে ভিক্ষাপ্রার্থী কমলা বেগমকে দেখে মনে হতেই পারে, কেন এখনো তিনি ভাতাবঞ্চিত আছেন?

তিনি সাংবাদিকের কাছে বলেছেন, ‘স্বামী নাই। ঘর নাই। পরের বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে। সারা দিন গাঁওগিরামে হাত পাইত্তা (ভিক্ষা) যা পাই, তাই দিয়া কোনোরকমে চলি। সরকার কতজনরে কত কিছু দিল। আমারে না দিল ঘর, না দিল বাড়ি। ও বাজান, আর কত বয়স হইলে বয়স্ক ভাতা পামু? বয়স্ক ভাতা কি বাজান মরণের পরে পামু?’ জানা যায়, ২৫ বছর আগে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে মারা যান ভূমিহীন আমর উদ্দিন। সেই সময় থেকে স্থানীয় আবু তাহের পাঠানের পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নেন কমলা বেগম। সেখানেই তিনি এখন বসবাস করেন। সারা দিন হাটবাজার ও গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করেন।

অসহায় এই নারীর ভাগ্যে বয়স্ক ভাতা কেন জোটেনি, সে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা যে এখন জনগণ থেকে দূরে দূরেই থাকেন। বয়স ও দারিদ্র্য বিবেচনায় কমলা বেগমের ভাতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়া উচিত। কমলা বেগমের বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কি নজরে আনবেন?

মানুষের উপকার করতে চাইলে বেঁচে থাকতেই করা উচিত। বড় লোকদের জন্য মরণোত্তর সম্মাননার চল আছে। বেঁচে থাকতেই গরিবরা কিছু পায় না। মরে গেলে তাদের খবর আর কে রাখে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ