ফেনীতে গত দুই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার শহরতলির মঠবাড়িয়া রাস্তার মাথায় মাইক্রোবাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক নারীসহ বিয়ে বাড়ির দুই যাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত জামাল হোসেন ও হাছনা আক্তার পলি আলকরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত জেলার মুহুরীগঞ্জ এলাকায় মহাসড়কে লরিচাপায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরীগঞ্জ সমিতি বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের পুব ডেকরা গ্রামের ফারজানা আক্তার কলির সঙ্গে একই উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের বিজয়করা গ্রামের মোহাম্মদ শাকিলের বিয়ের ধার্য ছিল।
তাই কনে ফারজানা আক্তার কলি শহরের একটি পারলার থেকে সাজগোজ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে কনের বড় বোনের জামাই জামাল হোসেন (৩৮) ও ভাতিজি হাছনা আক্তার পলি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত হন কনে ফারজানা আক্তার কলিসহ (১৮) আরও ৩ যাত্রী।
পরে স্থানীয়রা আহত কনেসহ ৩ জনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ফারজানা কলিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাইক্রোবাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাঙারু গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মী কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ঢাকাগামী একটি মালবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। আহত হয় আরও তিন পথচারী। পরে খবর পেয়ে মহাসড়ক পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।
মুহুরীগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চালকসহ লরিটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।