চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের কয়েক দফার সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা শাহজালাল ও শাহ আমানত হলের সামনে ছড়িয়ে পড়ে।
পূর্ব বিরোধের জের ধরে ‘সিক্সটি নাইন’ ও ‘সিএফসি’ নামের দুটি পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আহত হন সিক্সটি নাইনের কর্মী ও ইতিহাস বিভাগের ১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাদিম হায়দার, অর্থনীতি বিভাগের ১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মোমিনুল হক মিশু, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মাহমুদ রাফি এবং সিএফসির কর্মী ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষাবর্ষের ১৮-১৯ মো. আরাফাত রায়হান। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা–কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিক্সটি নাইন পক্ষের এক কর্মীকে মারধর করে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা। এ নিয়ে রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ ঘটনার জের ধরে গতকাল জুমার নামাজ শেষে সিএফসির কর্মী আরাফাতকে জিরো পয়েন্টে একা পেয়ে মারধর করে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা। এ সময় জিরো পয়েন্টে কয়েকজন সবজি বিক্রেতাও আহত হন। এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সিক্সটি নাইন পক্ষের কর্মী নাদিম হায়দারকে শাহজালাল হলের সামনে মারধর করে সিএফসির কর্মীরা। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অপর দুজনকেও মারধর করে সিএফসির কর্মীরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সিক্সটি-নাইন পক্ষের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘জুনিয়রদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি। তাঁরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’
সিএফসি পক্ষের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘জুনিয়রদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। এখন ঝামেলা শেষ হয়ে গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। আমরা সেটা মীমাংসা করেছি। গতকাল জিরো পয়েন্টে আবার সিএফসির এক কর্মীকে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা মারধর করলে আবার ঝামেলা শুরু হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।’