‘টাকার টান বইলা সাত দিন ধইরা শুধু ভর্তা ভাত খাইতেছি। অথচ আজকে সিএনজিতে কইরা পরীক্ষা দিতে আসা লাগল। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ছাড়া এইটারে আর কী বলব’—ধানমন্ডির ডা. মালেকা কলেজে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা আসিফ মাহমুদ এভাবেই আক্ষেপ ঝাড়লেন।
রাজধানীতে ঘোষণা ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে কিংবা হেঁটে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন আসিফের মতো আরও অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী। অনেকে পরীক্ষায় অংশও নিতে পারেননি।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়েছে ঢাকার বাইরে থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের। রংপুর থেকে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুল কেন্দ্রে সমন্বিত সাত ব্যাংকের পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন সামসুজ্জোহা। তিনি বলেন, এক দিনে একাধিক পরীক্ষা থাকায় এমনিতেই প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পরীক্ষা মিস হচ্ছে। এর মধ্যে আবার গাড়িঘোড়া নেই। বাস বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছি।
গতকাল রাজধানীতে ২৬টি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সকালে, বাকি ৯টি হয়েছে বিকেলে। সকালের দিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরীক্ষা দিতে আসা মাসুমা জানান, ধর্মঘটের ঘোষণা না থাকায় তিনি আগে কিছু বুঝতে পারেননি। পরীক্ষাকেন্দ্রে আসার জন্য মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। সামনে দিয়ে বিআরটিসির কয়েকটি বাস গেলেও তাতে ওঠেননি, কারণ এই বাসে গেলে কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে নামতে হবে। বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থেকে মাসুমা দেখলেন, সবাই সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে চলে যাচ্ছে। ঘটনা কী তখনও জানতেন না। পরে এক অটোরিকশাচালক তাঁকে ধর্মঘটের বিষয়টি জানান। পরে একজনের সঙ্গে ভাড়া শেয়ার করে সিএনজিতে করে কেন্দ্রে পৌঁছান তিনি।
তাহের নামে আরেক যাত্রী ঢাকা স্টেট কলেজ কেন্দ্রে পৌঁছাতে ভোর ছয়টায় লেগুনায় চড়ে রূপপুর থেকে রওনা হন। যাত্রাবাড়ী পৌঁছে বাস না পেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে তাঁকে।