হোম > ছাপা সংস্করণ

জেলা-তৃণমূল দুই মেরুতে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। নৈতিক স্খলন, দলে অনুপ্রবেশকারী, এমন অভিযোগ এনে তাঁদের পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব প্রার্থী বহাল থাকলে নৌকার ভরাডুবি হবে।

তবে দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে মনোনয়ন বোর্ড সঠিক প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিয়েছে বলে মনে করেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে বিষয়টি ভেবে দেখার কথাও বলেছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোট হবে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া উপজেলায়। এ ছাড়া ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ভোট হবে ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল এবং মুক্তাগাছা উপজেলায়। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীও চূড়ান্ত হয়েছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকার মনোনীতরা মাঠে সরব থাকলেও অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তাঁদের প্রার্থিতা পরিবর্তনে আন্দোলন করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ওয়ারেছ উদ্দিন সুমনের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিমুলতলী বাজারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবু তালেব, উপজেলা যুবলীগ নেতা শরিফুল আলম শরিফ, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সজীব আহসান সোহেল প্রমুখ।

এ বিষয়ে ধুরাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওয়ারেছ উদ্দিন সুমন বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিষয়কে একটি পক্ষ নির্বাচনের মাঠে ব্যবহার করছে। এতে সুনাম ক্ষুণ্নের পাশাপাশি ভোট কমার আশঙ্কা রয়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে উত্তেজনার।’

অপরদিকে দলে অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগ এনে অষ্টধার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক আরমানের পরিবর্তন দাবি করা হয়েছে। এ দাবিতে সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এতে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ময়মনসিংহ সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল খালেক সরকার, মজিবর রহমান তারা সরকার প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে দলে অনুপ্রবেশকারী অল্প বয়স্ক এক যুবককে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটি তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের অপমানের শামিল।

বক্তারা বলেন, ‘আমরা আজীবন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছি। এবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিতে চাই। তবে যোগ্য ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।’

জানতে চাইলে অষ্টধার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক আরমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ শহরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। অষ্টধারে আওয়ামী লীগের অবস্থা ভালো নয় বিধায় আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি শহরে বড় হয়ে মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় লোকজন আন্দোলন করছে, সেটা কোনো বিষয় না।’

অন্যদিকে সদর উপজেলার কুষ্টিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী এসএম শামসুল হক ও পরাণগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনূস আলীর পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে। এ দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দলটা অনেক এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছানোর জন্য মনোনয়ন বোর্ড ভেবেচিন্তে সঠিক লোককেই মনোনয়ন দিচ্ছে।’

তবে মনোনয়ন পাওয়া কারও বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে কেন্দ্রে অবহিত করা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘কেউ নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা করবে না, এটাই আশা করব।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ