সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। সংসারে অভাব তেমন ছিল না; বরং প্রতিবেশীদের সাহায্য করার মতো অবস্থা ছিল আব্দুল জলিলের। দুই ঈদে আত্মীয় স্বজনের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। সেই জলিল এখন পরিবারের কাছে বোঝা। সুদিনে যাদের বিপদে হাত বাড়িয়েছেন, তারাও নেই পাশে।
একটি দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে ৫০ বছরের জলিলের জীবন। ছয় মাস আগে মাগুরা–ঝিনাইদহ মহাসড়কে নসিমন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক দুমড়ে–মুচড়ে দেয় তাঁর নসিমন। এতে গুরুতর আহত জলিলকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাম পায়ে পচন ধরলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। সেখানে বাম পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়।
জলিল বলেন, ‘সবাই বলে ভিক্ষা করতে। কিন্তু ভিক্ষা করা সব থেকে ছোট কাজ। আমার মতে এটা করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। আমি পরিশ্রম করে আয় করতে চাই।’ তাঁকে সবচেয়ে কষ্ট দিয়েছে, যাদের তিনি সাহায্য করেছেন তারা কেউ সাহায্য করা তো দূরের কথা, দেখতেও আসেনি।
আব্দুল জলিলের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামে। জীর্ণ বাড়িতে বাস স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে। জলিল জানান, স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে এতদিন চললেও এখন আর কেউ দিতে চাইছেন না।
ধার করে বা পরনির্ভরশীল হয়ে নয়, নিজে রোজগার করে বাঁচতে চান জলিল। বলেন, ‘একটি নকল পা যদি লাগানো যেতো তবে চলতে চেষ্টা করতাম। বসা কাজ করতাম। আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম। একটা ছোট দোকান করার মতো সহযোগিতা পেলে আমি আবার মানুষের জন্য কিছু করতাম। স্বার্থপর হতাম না। দেখিয়ে দিতাম মানুষের পাশে কীভাবে থাকতে হয়।’