অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে যশোরের মনিরামপুরে জনবসতিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা কয়লার চুল্লি। বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি করেও চুল্লির মালিক আমিনুর রহমান বাদশা কয়লা উৎপাদনের কাজ চালু রাখতে পারেননি। এখন চুলা গুটিয়ে সরে যাচ্ছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, কাশিমনগর ইউনিয়নের কুলিপাশা গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছয়টি কয়লার চুল্লি খালি পড়ে আছে। ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে জায়গা খালি করছেন মালিক বাদশা।
লোকালয়ে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি হওয়ায় সৃষ্ট ধোয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে আশপাশের মানুষের জীবন। চুল্লি বন্ধের দাবিতে তখন তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
বিষয়টি নিয়ে গত ৭ জুলাই আজকের পত্রিকায় ‘জনবসতিতে কয়লার চুল্লি’ ও ৮ সেপ্টেম্বর ‘দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলি, বাড়ছে চুল্লি’ শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন বিষয়টি আমলে নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান। তিনি পুলিশের সহায়তায় কয়লার চুল্লি বন্ধ করে দেন।
কুলিপাশা গ্রামের দুলাল দাস বলেন, ‘মাসখানেক চুলা বন্ধ রয়েছে। এখন স্বস্তিতে নিশ্বাস নিতে পারছি।’
চুল্লির মালিক আমিনুর রহমান বাদশা বলেন, ‘ইউএনওর কাছে গেয়েছিলাম অনুমতির জন্য। তিনি অনুমতি না দিয়ে চুলা বন্ধ রাখতে বলেছেন। আরও ওপরে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেও বন্ধ রাখতে বলেছেন। পত্রিকায় রিপোর্ট হওয়ার চার দিন পরে থানার উপপরিদর্শক জিয়াউল হক এসে চুলা বন্ধ রাখতে বলেন।’
বাদশা বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস কাঠ পোড়াচ্ছি না। ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে শার্শায় শ্বশুরবাড়ি এলাকায় নিচ্ছি। সেখানে আগে আমার এ ব্যবসা ছিল। আবার ওই এলাকায় শুরু করব।’
তিনি বলেন, ‘এখানে ১০ জন শ্রমিক ছিল। আমার ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
মনিরামপুর থানার উপপরিদর্শক জিয়াউল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি নিজ উদ্যোগে চুলা বন্ধ করে দিয়েছি। বন্ধ করার কয়দিন পর ইউএনওর পক্ষ থেকে একটা চিঠি পেয়েছি।’
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, ‘মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। পরে পুলিশ কাজটি বন্ধ করে দিয়েছে।’