উত্তর বাড্ডার হাসান মাহমুদ গতকাল শুক্রবার বিকেলে শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে এসেছিলেন। তবে অন্য সবার মতো ছুটির দিনটি উপভোগ করতে নয়; এসেছেন ভিন্ন কারণে। তাঁর মতো আরও ২৫-৩০ জন এসেছিলেন। তাঁরা সবাই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক। ই-অরেঞ্জে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পেতে তাঁরা সম্প্রতি কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সদস্যরা গতকাল বসেছিলেন ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোচনায়। সভায় মামলা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উত্তর বাড্ডার হাসান মাহমুদ জানান, তিনি গাড়ির পার্সের ব্যবসা করতেন। কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছে। পরে ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিশাল ছাড়ে পণ্য কেনার ফাঁদে পা দেন। দুই মাসের বেশি সাময় ধরে পণ্য ডেলিভারি বন্ধ ও ই-অরেঞ্জের মালিক গ্রেপ্তার হওয়ায় টাকা ফেরত পাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাই ই-অরেঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ২০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি করেছেন। এ ছাড়া ৭০-৮০ সদস্যের জোনভিত্তিক কমিটি করা হয়েছে। আর এই কমিটির পক্ষ থেকে মামলা করার উদ্দেশ্যে গতকালকের একটি প্রস্তুতি সভা করেছেন তাঁরা।
হাসান মাহমুদ বলেন, ‘করোনায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেল। বাধ্য হয়ে দোকান বিক্রি করে দিলাম। কিছু টাকা হাতে ছিল পরিবার নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বিশেষ ছাড়ে ই-অরেঞ্জ থেকে পণ্য কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমি ঠিকানা-ছাড়া মানুষ। স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেছেন। আমি একটা গোডাউনে কোনো রকম রাত কাটাই।’
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তারেক। গতকালকের সভার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ই-অরেঞ্জের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই আমরা একটা কমিটি করেছি। কোন পথে এগোলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়, সে বিষয়ে আজ (গতকাল) আলোচনা হয়েছে।’