মনিরামপুরে একসময় শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহে গাছিদের তৎপরতা দেখা যেত। সকাল হলে বাড়ি বাড়ি রস জ্বাল করে গুড় তৈরি করা হত। তবে এ বছর কিছুটা ভিন্ন চিত্র চোখে পড়েছে।
রস সংগ্রহের ভরা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত খেজুর গাছ থাকলেও রস সংগ্রহে গাছিদের কোনো তৎপরতা নেই। অনেকেই বলছেন মনিরামপুরে কোনো প্রশিক্ষিত গাছি নেই তাই এমন দশা। জেলার অন্য উপজেলায় বিভিন্ন সংস্থা গাছিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও মনিরামপুরে তেমনটি দেখা যায়নি।
উপজেলার রোহিতা, মাহমুদকাটি ও রঘুনাথপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত খেজুর গাছ পরিত্যক্ত পড়ে আছে। আবার অনেক গাছ মালিকেরা খেজুর গাছ বিক্রি করে জমি খালি করছেন। গাছ মালিকেরা বলছেন, অনেক গাছি এখন তাঁদের আগের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাই সময়মতো গাছি পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য খেজুর গাছ পড়ে থাকছে। শুধু শুধু গাছ ফেলে রেখে জমি নষ্ট করার দরকার কি। এ জন্য ফুট ১০ টাকা দরে গাছ বেঁচে দিয়ে জমি খালি করছি।
স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক বছর আগে খেজুর গাছ কাটতে উঠে রোহিতা এলাকার বাবু দাস নামে এক গাছি গাছ থেকে পড়ে আহত হন। পরে দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে তিনি মারা যান। এরপর থেকে অনেক গাছিরাই এখন খেজুর গাছ কাটা ছেড়ে দিয়েছেন।
রঘুনাথপুর গ্রামের আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘গাছি পাওয়া যাচ্ছে না। ৫-৭টা খেজুর গাছ আছে। ফুট ১০ টাকা হিসেবে গাছ বেঁচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিছি।’
আবদুল ওয়াদুল বলেন, ‘কয়েক বছর আগে খেজুর গাছ থেকে পড়ে রোহিতার বাবু নামে এক গাছি মারা যায়। এরপর আর গাছিরা আর গাছে উঠতে চাচ্ছে না।’
তবে কয়েকজন গাছির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামে রস চোরের উৎপাত বেড়েছে। গাছ কেটে রেখে গেলে রাতে এসে রস নিয়ে ভাঁড় নিচে ফেলে যায়। সকালে এসে এ অবস্থা দেখলে আর গাছ কাটতে মনে চায় না।
মাহমুদকাটি গ্রামের গাছি আবদুল মজিদ বলেন, ‘খেজুর গাছে ওঠা অনেক কষ্ট। তাই গাছ কাটা ছেড়ে মাঠের কাজ করছি।’
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, ‘খেজুরের রস ও গুড় সংরক্ষণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি পাইলট প্রকল্প আছে। মনিরামপুরে সেটার কার্যক্রম নেই। শুনেছি এ অঞ্চলেও প্রকল্পটি আসবে।’