হোম > ছাপা সংস্করণ

পর্যাপ্ত সরবরাহেও দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রথম ঢেউয়ের মতো করোনার চলমান দ্বিতীয় ঢেউয়েও অনেক মানুষের আয় কমেছে। দেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্রের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। প্রান্তিক, স্বল্প ও মধ্য আয়ের কয়েক কোটি মানুষ প্রথম ঢেউয়েই এই খাতায় নাম লিখিয়েছেন। সংসার চালাতে তাঁদের এখন রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে। নিত্যপণের দাম লাগাতার বাড়তে থাকায় অনেকে চোখে অন্ধকার দেখছেন। পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ সত্ত্বেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গোপীবাগ, কমলাপুর, মানিকনগর এবং রামপুরাসহ কয়েকটি কাঁচাবাজর ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সব ধরনের শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে দাম চড়া।

গত সপ্তাহে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ঝিঙে এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৬০ টাকায়। মানভেদে করলা কেজিতে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০-৭৫ টাকা। চিচিঙ্গা গেল সপ্তাহে ৪৫-৫৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাত দিন আগের তুলনায় ১০ টাকা বেশিতে পটোল ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৬০ ও ৭০-৮০ টাকায়। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়স, বরবটি, ফুলকপি-বাঁধাকপি, শিম, কাঁচকলা, লাউ, পেঁপে, গাজর, লেবু ইত্যাদির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজি-পিস বা হালিতে ৫-১০ বা ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের শাকের দামে একই ধরনের অবস্থা দেখা গেছে।

চড়া সবজির বাজার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। যাত্রাবাড়ী বাজারে শাক-সবজির দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় ক্রেতা রিতা নাহার বলেন, ‘ভাই আমাদের মতো গরিব মানুষের আর বাঁচার উপায় নাই। মাছ-মাংসের দাম তো আগে থেকেই বেশি। গত কয়েক মাস ধরে শাক-সবজির দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে এখন শাক-সবজি খাওয়াও ভুলে যেতে হবে। বাজারের নাম শুনলে আতঙ্ক লাগে।’

রাজধানীর উল্লিখিত স্থানগুলোয় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা বেড়ে ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে রুই মাছ কেজিতে ২৮০-৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ২০০-৩২০ টাকা। আর কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ২৫০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। শিং, শোল, পাঙাশ, নলা, চিংড়ি মাছের দামও প্রায় একই হারে বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৬০-১৬৫ টকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৭০-১৭৫ টাকা। আর দুই সপ্তাহে আগে ছিল ১৮৫-২০০ টাকা।

সবজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মুদি পণ্যের দামও ক্রমশ বাড়ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল কেজিতে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৫৩ টাকা। তবে চালের বাজার প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। মানভেদে আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬৮ টাকায়, পারি সিদ্ধ চাল ৫০-৫২, জিরা শাইল ৬০ টাকা, আতপ পাইজাম ৫৫-৬২ টাকা, মিনিকেট ৫০-৫৫ টাকা, কাটারি সিদ্ধ ৯০-৯২ টাকা এবং চিনিগুঁড়া ৮৮-৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রামপুরায় বাজার করতে আসা বেসরকারি স্কুলের একজন শিক্ষক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সবকিছুর এত চড়া দাম, মনমতো কিছুই কেনা যায় না। শখ করে কিছু খেতে চাইলেও অতিরিক্ত দামের কারণে তা কেনা হয়ে ওঠে না। আজকের বাজারে সবজি থেকে শুরু করে মাছ, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, ডিম, এমনকি ব্রয়লার মুরগির দামও বেশি। সবকিছু সামর্থ্যের বাইরে। এত বেশি দাম হলে আমরা চলব কী করে?

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ সত্ত্বেও দাম অনেক বেশি, যা কেনার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের থাকার কথা নয়। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ