ত্রিশ বছর ধরে ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন নুরুল আক্তার। পরিচালনা করছেন ‘আশকোনা গাওয়াইর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জনকল্যাণ প্রকল্প’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি, দোকান, মার্কেট, বাজার, রাস্তা ও পুল থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করছেন তিনি।
গত পাঁচ মাস ধরে নুরুলের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম। সর্বশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদা দিতে না চাইলে নুরুলকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর মামলা করেছেন নুরুল। তবে কাউন্সিলরের দাবি, স্থানীয় এমপি হাবিব হাসান ষড়যন্ত্র করে তাঁর লোক দিয়ে এই মামলা করিয়েছেন।
আদালত নালিশি মামলা রেকর্ড করার জন্য দক্ষিণখান থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মুহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, ‘বুধবার আদালতের আদেশ পেয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
কাউন্সিলর নাঈম ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওই মামলায় দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে রাজু (৩৫) ও মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মাসুদকেও (৩৫) আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল রাজু ও তাঁর সহযোগীরা বাদীর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না পেয়ে ভ্যানচালক আনোয়ার হোসেন ও রেফাজকে মারধর করেন আসামিরা। এর তিন দিন পর আসামিরা পুনরায় বাদীর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফের দুই লাখ টাকা চান। সর্বশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলর নাঈম, রাজু মাসুদসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জন বাদীর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আগের মতো দুই লাখ টাকা দাবি করেন। নুরুল টাকা দিতে না চাইলে কাউন্সিলর নাইম তাঁদের শার্টের কলার ধরে মারধর করেন। নুরুলের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মজিবুর ভয় পেয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মাসুদকে দেন। নিয়মিত টাকা না দিলে মেরে ফেলা ও গুম করার হুমকি দেন কাউন্সিলর নাঈম।
ডিএনসিসির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মামলার বাদী আমার এলাকাতেই থাকে। কিন্তু বিগত ছয় মাসেও আমার সঙ্গে দেখা হয় নাই। অথচ আমার নামে চাঁদাবাজির মামলা করেছে। সত্যি বলতে আমার সঙ্গে এমপি সাহেবের একটু বাদাবাদি। ওনারে নাকি কে বলেছে—আমি এলাকার এমপি হতে চাই। এ কারণেই ষড়যন্ত্র করে মামলা করিয়েছেন এমপি হাবিব হাসান।’
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবিব হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ওমরা হজ পালনে সৌদি আরবে থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।